পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি বুলডোজারে ভাঙচুর, লুটপাটের পর আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান (লাভলু)-এর বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বাড়ির মালামাল লুটপাটেরও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন উত্তর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। ঘটনার সময় তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।

মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পীর অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর নেতৃত্বে কয়েক শ মানুষ বুলডোজার দিয়ে তাঁদের ছয় কক্ষের পাকা বাড়ি ভেঙে ফেলে। এরপর ঘরে থাকা রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, এসি, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বাড়িটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার আগে আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজনকে এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। কেউ ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাঁদের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি ঘটনাস্থলের অদূরেই থাকলেও হামলাকারীদের তৎপরতার কারণে পুলিশ কার্যকরভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারেনি বলে তিনি দাবি করেন।

খবর পেয়ে শনিবার সকালে মির্জাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান বাড়ির সামনের অংশ ভাঙা এবং চারটি কক্ষে আগুন জ্বলছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরী। তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। অপরদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকার দাবি করেন, বাড়িটি সরকারি লাইব্রেরির জমিতে নির্মিত হয়েছিল। তবে কেন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে এভাবে ভাঙা হয়েছে—এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ভোররাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বাড়িতে আগুন দেয় এবং খননযন্ত্র দিয়ে বাড়ির অংশ ভেঙে ফেলে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল বলেন, ফায়ার সার্ভিসের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়িকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।