বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শনে অমিত শাহ, ‘চিকেনস নেক’–এর নিরাপত্তায় জোর

কলকাতা : 

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ সফরে বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শন করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সীমান্তে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সীমান্তরক্ষীদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

শুক্রবার রাতে শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছে বিএসএফের কদমতলা সদর দপ্তরের অতিথিশালায় রাতযাপন করেন অমিত শাহ। শনিবার সকালে তিনি ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকার ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত, কাঁটাতারসংলগ্ন জামুরিয়া ভিটা ও সন্ন্যাসী কাঁটা সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে জুমাগাছ সীমান্ত আউটপোস্টে বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বিএসএফের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নতুন ১৪টি সীমান্তচৌকির উদ্বোধন করেন।

পরে উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক কেন্দ্র ‘উত্তরকন্যা’য় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে ‘চিকেনস নেক’ করিডরের নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে অমিত শাহ বলেন, ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তকে আরও দুর্ভেদ্য করতে কেন্দ্রীয় সরকার বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। অনুপ্রবেশ রোধ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বিএসএফ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি আরও বলেন, শিলিগুড়ি করিডরসহ উত্তরবঙ্গের পুরো সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগকারী মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যবর্তী এই সরু করিডরকে নিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল মনে করেন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তে অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে ভারত সরকার।