ইরানের কেশম দ্বীপের উপকণ্ঠে অন্তত ৬টি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের উপকণ্ঠে অন্তত ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম। শনিবার দিবাগত রাত স্থানীয় সময় ৩টা ৩৮ মিনিটের দিকে দ্বীপটির বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
তাসনিমের স্থানীয় সংবাদদাতার বরাতে জানানো হয়, কেশম দ্বীপের উপকণ্ঠের কয়েকটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের বিষয়েও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্বীপটির তিন থেকে পাঁচটি স্থানে হামলা হয়েছে। যদিও এ তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহের জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের উপকণ্ঠের একটি স্থানে মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়েছে। তবে ওই হামলায় কোনো বেসামরিক ব্যক্তি হতাহত হননি এবং আবাসিক বা বাণিজ্যিক স্থাপনারও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সময়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস থেকেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে।
তবে তাসনিমের বরাতে প্রাদেশিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা মার্কিন যুদ্ধবিমানের আক্রমণের কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে কেশম দ্বীপ ও বন্দর আব্বাস অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলার অভিযোগ তুলে আসছে ইরান। এর আগে দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর খামির এলাকায় একটি সেতুতে মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার দাবি করেছে তেহরান।
ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুই কিশোরী—সোগান্দ দার্দমান্দ ও ফাতেমেহ জাহরা আকবরি—রয়েছেন। দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাঁদের নাম প্রকাশ করে শোক প্রকাশ করেছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মার্কিন হামলায় দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।