জিনেদিন জিদান থেকে এনজো ফার্নান্দেজ—বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড দেখেছেন কারা

বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডের প্রসঙ্গ উঠলেই ফুটবলপ্রেমীদের চোখে প্রথম ভেসে ওঠে ২০০৬ সালের সেই মুহূর্ত—ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে আঘাত করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ছেন ফ্রান্স অধিনায়ক জিনেদিন জিদান। নিজের শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই বিদায় নিতে হয়েছিল কিংবদন্তি এই মিডফিল্ডারকে।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে সেই স্মৃতিই যেন নতুন করে ফিরিয়ে আনলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। স্পেনের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের আগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। এরপর ১০ জনের আর্জেন্টিনা আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ফেরান তোরেসের গোলে ১-০ ব্যবধানে শিরোপা জিতে নেয় স্পেন।

অনেকের বিশ্বাস, এনজো মাঠে থাকলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে যেমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে দলকে ফিরিয়েছিলেন, ফাইনালেও হয়তো তেমন কিছু করার সুযোগ পেতেন। কিন্তু ৯৩ মিনিটে তাঁর বিদায়ে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের ভারসাম্য পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের লাল কার্ড দেখার ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। ১৯৭০ সালে লাল-হলুদ কার্ড চালুর পর এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ ফাইনালে মোট ছয়জন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনই আর্জেন্টিনার।

বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম লাল কার্ড দেখেছিলেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার পেদ্রো মোনজোন। ১৯৯০ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তিনি। একই ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার আরেক খেলোয়াড় গুস্তাভো দেজোত্তিও। দুই খেলোয়াড় কমে যাওয়া আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন হারায়।

১৯৯৮ সালের ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফ্রান্সের মার্সেল দেশাইলি দুই হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও ১০ জনের দল নিয়েই প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফরাসিরা।

এরপর আসে ২০০৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ঘটনা। অতিরিক্ত সময়ে মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে আঘাত করার অপরাধে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন জিদান। তাঁর বিদায়ের পর টাইব্রেকারে ইতালির কাছে হেরে যায় ফ্রান্স।

২০১০ সালের ফাইনালেও লাল কার্ডের সাক্ষী হয় ফুটবল বিশ্ব। নেদারল্যান্ডসের ডিফেন্ডার জন হেইতিঙ্গা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর অতিরিক্ত সময়ে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলে বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্পেন।

এরপর টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল—২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২—লাল কার্ড ছাড়াই শেষ হয়। অবশেষে ২০২৬ সালের ফাইনালে সেই ধারার অবসান ঘটালেন এনজো ফার্নান্দেজ।

ম্যাচের ৮২ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন তিনি। এরপর ৯৩ মিনিটে স্পেনের পাও কুবারসিকে ফাউল করলে রেফারি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে তাঁকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। সেই লাল কার্ডের পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্পেনের হাতে চলে যায়। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেন নিশ্চিত করে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।

এনজোর লাল কার্ড তাই শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি হয়ে থাকল এমন এক মুহূর্ত, যা হয়তো বহুদিন তাড়া করে ফিরবে আর্জেন্টিনার এই মিডফিল্ডারকে—যেমনটি আজও তাড়া করে ফেরে জিনেদিন জিদানের ২০০৬ সালের সেই বিদায়কে।