প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬
সময়: ০৩:৫৮ পিএম
গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ : সারজিস আলম
মোঃ মাহমুদুল হাসান বাবু, পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ গণভোটকে অবৈধ বললেও একই আদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বৈধ বলা যায় না। তার ভাষায়, যেই আদেশের বলে একই সঙ্গে গণভোট হলো এবং নির্বাচন হলো, সেই আদেশের নির্বাচন বৈধ হয়, তাহলে গণভোট কীভাবে অবৈধ হয়? এক মায়ের পেট থেকে দুই যমজ সন্তান এসেছে, এক যমজ সন্তান বৈধ আরেকটা অবৈধ এটা তো কোনোদিন হতে পারে না।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের বোদায় শহীদ মিনার চত্বরে 'দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা' উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, এই গণভোট যদি অবৈধ হয় তাহলে আপনি সালাউদ্দিন আহমেদ অবৈধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জনাব তারেক রহমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি সরকার অবৈধ সরকার। কথা ভেবে-চিন্তে বলবেন। ৫০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, কিন্তু ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়ে এই গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে।
সংবিধানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গণভোট সাংবিধানিক না অসাংবিধানিক, এই সংবিধানের খেলা দেখাতে আসবেন না। ১৭ বছর এই খেলা দেখাতে গিয়ে একজনও সাহস করে দেশে ঢুকতে পারেন নাই। ২৪-এর অভ্যুত্থানকে আপনি কোন সংবিধান দিয়ে ব্যাখ্যা করবেন? একটা দেশের প্রয়োজনে সংবিধান হয়, জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান হয়। জনগণ আর দেশের ওপরে কোনোদিন সংবিধান হতে পারে না।
ব্যাংক খাত নিয়ে অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যেমন এস আলমের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছিল, বিএনপিও একই পথে হাঁটছে।
তিনি বলেন, আমরা দেখছি তারা ব্যাংক দখলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে এস আলমের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল শুরু করেছে। বিএনপি ২০২৬ সালে ক্ষমতায় এসে একই বছর ইসলামী ব্যাংক দখলের পায়তারা শুরু করেছে তাদের দলীয় নেতা আর এস আলমের বেয়াই ও শ্বশুরের মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন, গত পরশুদিন ইসলামী ব্যাংকে আরেকজনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সরাসরি এস আলমকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি চক্ষুলজ্জার ভয়ে, তাই এস আলমের বেয়াইকে ফিরিয়ে এনেছে। অথচ এই এস আলম আওয়ামী লীগের সময়ে মানুষের প্রায় ৯৯ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এখন ভাগ-বাটোয়ারার রাজনীতির কারণে তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে।
গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর, রাশেদ খান এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকীর সমালোচনাও করেন সারজিস আলম।
তিনি বলেন, যাদের আমরা একসময় সংস্কারের পক্ষে কথা বলতে দেখেছি, আন্দোলনে দেখেছি, তারা আজ একটা প্রতিমন্ত্রীর লোভে বিবেক বিক্রি করে দিয়েছে। জোনায়েদ সাকি, যার মুখে প্রথম সংস্কারের কথা শুনেছি, তিনি একটা প্রতিমন্ত্রীর লোভে সংসদে গিয়ে এমন হারিয়ে গেছেন যে টর্চলাইট, হ্যারিকেন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না।
তারেক রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের অবস্থা এতটাই বাজে হয়েছে, বিএনপির এতটাই খারাপ দিন এসেছে যে রাশেদ খানের মতো একটা মিথ্যা প্রোপাগান্ডাবাজকে তিনি সহকারী বানিয়েছেন।
পঞ্চগড়ে ছাত্রলীগের এক নেতার জামিন প্রসঙ্গ তুলে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেন সারজিস আলম।
তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রলীগের যে সভাপতি জুলাই আন্দোলনে আমার ভাইদের পিটিয়েছে, রক্তাক্ত করেছে, তার জামিন হয়ে যায়। পুলিশকে বলতে চাই, জেলা জজকে বলতে চাই, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বলতে চাই, হাইকোর্টের বিচারকদের বলতে চাই আপনাদের মধ্যে অনেকেই এখনো মনে মনে আওয়ামী লীগের দালাল। আগামী অভ্যুত্থানে অফিসে বসে থাকা, কোর্টে বসে থাকা, থানায় বসে থাকা, প্রশাসনে বসে থাকা দালালদের বিরুদ্ধে সবার আগে অভ্যুত্থান হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকের নামের তালিকা করা হবে। কোন ডিসি, কোন এসপি, কোন ওসি, কোন ইউএনও দেশের মানুষের আগে দলের দালালি করে, তাদের নাম পোস্টার করে দেয়ালে লাগিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে অনেকে পার পেয়ে গিয়েছে, আগামীতে আপনারা পার পাবেন না ইনশাআল্লাহ।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, আওয়ামী লীগ ছিল, এখন নেই। বিএনপি আজ আছে, আগামীতে নাও থাকতে পারে। কিন্তু জনগণ থাকবে, রাষ্ট্র থাকবে। তাই দলের দাস হিসেবে নয়, কোনো ব্যক্তির দালাল হিসেবে নয়, জনগণের জন্য কাজ করুন। জনগণই আপনাদের সম্মান রক্ষা করবে।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ প্রমুখ।