দীর্ঘ ৩৪ বছরের অপেক্ষা, তালাবদ্ধ বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্রাবাস

আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশালঃ 

দীর্ঘ ৩৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি বরিশালের বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজের বহুল প্রত্যাশিত ছাত্রাবাস। প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা ভবনটি শিক্ষার্থীদের আবাসনের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হলেও আজ সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নজরদারির অভাবে ভবনটি বর্তমানে মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজ ক্যাম্পাসের তিনতলা ছাত্রাবাস ভবনের অধিকাংশ কক্ষ দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে আছে। বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মদের বোতল, সিগারেটের খালি প্যাকেট, মাদকসেবনের বিভিন্ন আলামত এবং নারীদের ব্যবহৃত পোশাক। ভবনের দরজা-জানালা, গ্রিলসহ বিভিন্ন স্থাপনা চুরি হয়ে গেছে। 

দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, রড বের হয়ে এসেছে, বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ছাদ থেকে পানি চুইয়ে পড়ে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দিনের পাশাপাশি রাতেও ভবনটিতে নিয়মিত মাদকসেবন, জুয়া ও নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। নিরাপত্তা বা তদারকির জন্য সেখানে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে দেখা যায়নি।

জানা গেছে, ১৯৭০ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় বাকেরগঞ্জ কলেজ। ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই কলেজটি সরকারি মর্যাদা লাভ করে। পরে ১৯৯২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ছাত্রাবাসটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজ শেষ হলেও নানা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জটিলতায় ভবনটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ছাত্রাবাস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়কসহ কোনো পদে এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এমনকি ভবনটির পরিচালনার দায়িত্ব কোন কর্তৃপক্ষের অধীনে রয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।

এদিকে কলেজের ৬ একর ৩০ শতাংশ জমির মধ্যে ছাত্রাবাস নির্মিত স্থানের ৫৩ শতাংশ জমির মাত্র ২৭ শতাংশ কলেজের নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। অবশিষ্ট ২৬ শতাংশ জমি স্থানীয় কয়েকজনের নামে রেকর্ড হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ২০১৯ সালে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা (নং-১৭৫৯/১৯) দায়ের করা হয়। মামলাটি এখনো বিচারাধীন থাকায় ছাত্রাবাস চালুতে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রাবাসসংলগ্ন সরকারি জমির একটি অংশ দখল করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া আদায় করছে।
কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, উপজেলার একমাত্র সরকারি কলেজ হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে অনেক শিক্ষার্থী এখানে পড়তে আসে। আবাসন সুবিধা না থাকায় তাদের প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করতে হয়, যা অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য। ছাত্রাবাসটি চালু হলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে।

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত জমি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং ছাত্রাবাসটি চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।