প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬
সময়: ০৫:১৫ পিএম
ভরা মৌসুমে ইলিশের হতাশা, জেলেদের জালে ধরা দিচ্ছে বিশাল পাঙাশ
আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশালঃ
বর্ষার ভরা মৌসুম, টানা বৃষ্টি আর নদ-নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি—সবকিছুই ইলিশের জন্য অনুকূল হলেও বরিশাল অঞ্চলের নদীগুলোতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলেরা। তবে একই সময়ে মেঘনা, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ ও কীর্তনখোলা নদীতে বড় আকারের দেশীয় পাঙাশ ধরা পড়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
গত দুই দিন ধরে বরিশাল নগরের পোর্ট রোড মাছ মোকামে বড় বড় পাঙাশের সরবরাহ বাড়লেও ইলিশের আমদানি ছিল খুবই সীমিত। ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের পাঙাশ কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ইলিশের দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষার পানিতে নদীতে পাঙাশের বিচরণ বেড়েছে। ইলিশের সংকটের কারণে অনেক ক্রেতাই বিকল্প হিসেবে দেশীয় পাঙাশ কিনছেন। অনেকে আবার কয়েকজন মিলে ভাগ করে একটি বড় পাঙাশ কিনে নিচ্ছেন।
ক্রেতা জোবায়ের বিশ্বাস জানান, তিনজন মিলে ৭ কেজি ওজনের একটি নদীর পাঙাশ কেজিপ্রতি ৮০০ টাকায় কিনেছেন। দাম বেশি হলেও নদীর মাছ হওয়ায় স্বাদ ও মানের কথা বিবেচনা করে কিনেছেন।
পোর্ট রোড মাছ মোকামের আড়তদার নাসির উদ্দিন বলেন, ভরা মৌসুমেও ইলিশের সরবরাহ আশানুরূপ নয়। তবে গত দুই দিন ধরে ৬ থেকে ৭ কেজি ওজনের বড় পাঙাশ উঠছে। মঙ্গলবার মোকামে প্রায় ৫০ মণ ইলিশ এসেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২ হাজার ৮০০ টাকায়, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং আধা কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
ইলিশ না পেয়ে হতাশ জেলেরা। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার উলানিয়ার জেলে তোফায়েল হোসেন বলেন, বর্ষা শুরু হলেও নদীতে প্রত্যাশিত ইলিশ মিলছে না। অল্প যে ইলিশ ধরা পড়ছে, তা দিয়ে দাদনের টাকা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
সদর উপজেলার টুমচরের জেলে রিয়াজ হোসেন বলেন, কয়েক দিনে দুটি বড় পাঙাশ পেলেও ইলিশ খুব কম মিলেছে। তবে নদীর পাঙাশের চাহিদা থাকায় এ মাছ কিছুটা হলেও জেলেদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে।
হিজলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, গত দুই বছর ধরে মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে পাঙাশের পোনা ধরার চাঁই ও নাইলনের বড়শি উচ্ছেদ এবং নিয়মিত নজরদারির ফলে নদীতে পাঙাশের সংখ্যা বেড়েছে। এবার বর্ষাতেও বড় আকারের পাঙাশ ধরা পড়ছে, যা নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ইতিবাচক লক্ষণ।
বরিশাল জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ভরা মৌসুমেও কেন ইলিশের সরবরাহ কম, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন নদী ও মাছ ধরার এলাকায় তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ চলছে। তিনি জানান, বর্তমানে বৃষ্টির কারণে কিছু পাঙাশ ধরা পড়লেও সাধারণত শীতের শুরুতে, বিশেষ করে নভেম্বর মাসে এ মাছের প্রাচুর্য বেশি দেখা যায়।