আড়াইশ কোটি টাকার সরকারি জমি, ১১ বছর ধরে অনাদায়ী ইজারা

আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরোঃ 

বরিশালে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ২০৭ শতাংশ সরকারি জমিতে ১৩টি পেট্রলপাম্পের বাণিজ্যিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও ইজারা মূল্য নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় গত ১১ বছর ধরে সরকার কোনো রাজস্ব আদায় করতে পারেনি। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ে সরকারের কোটি টাকার ইজারা বকেয়া জমেছে। অন্যদিকে, স্থানীয়দের হিসাবে এসব জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা।

সওজ সূত্র জানায়, ২০০৪ সাল থেকে পেট্রলপাম্প মালিকেরা বিঘাপ্রতি বছরে ৫ হাজার টাকা হারে ইজারা দিয়ে আসছিলেন। ২০১৫ সালে সরকারের ভূমি নীতিমালা অনুযায়ী মৌজা মূল্যের ৭০ শতাংশের ভিত্তিতে ইজারা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হলে কয়েকজন পাম্প মালিক আদালতে মামলা করেন। এরপর থেকে নতুন হারে ইজারা আদায় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে আবারও ইজারা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। বর্তমান হিসাবে সংশ্লিষ্ট পাম্পগুলোর কাছ থেকে বছরে ২০ লাখ টাকার বেশি ইজারা পাওয়ার কথা। সেই হিসাবে গত ১১ বছরে বকেয়ার পরিমাণ দুই কোটির টাকারও বেশি হয়েছে। তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত নতুন হারে ইজারা পরিশোধ সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পাম্প মালিকেরা।

এদিকে, মামলা চললেও পেট্রলপাম্পগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু সরকারি রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকায় রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল পেট্রল পাম্প ও ট্যাংক-লরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আকবর বলেন, "সওজ একতরফাভাবে ইজারা মূল্য নির্ধারণ করায় মালিকেরা তা মেনে নিতে পারেননি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই আমরা মেনে নেব।"

অন্যদিকে একাধিক পাম্প মালিকের দাবি, বিষয়টি শুরুতেই প্রশাসনিকভাবে সমাধান করা গেলে দীর্ঘ আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতো না। তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার উদ্যোগ নিলে আদালত পর্যন্ত বিষয়টি গড়াত না।

সওজের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের ভূমি নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ইজারা মূল্য পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়ম অনুসারেই নতুন ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ব্যক্তিগতভাবে কোনো কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের সুযোগ নেই।

সওজ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, "মামলার কারণে ইজারা-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী বকেয়া আদায়সহ পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতের নির্দেশনার বাইরে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্চমূল্যের সরকারি জমিতে ব্যবসা অব্যাহত থাকলেও দীর্ঘদিন রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকায় রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁদের মতে, দ্রুত মামলার নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকারের পাওনা রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সরকারি জমির ইজারা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।