গার্মেন্টস শ্রমিক ফারহানা আক্তারের ১৫ বছর বয়সী অসুস্থ সন্তান মোঃ রাসেল আনার খাওয়ার বায়না ধরেছে তাই তিনি ফলের দোকানে গেল একটি আনার কিনবে বলে কিন্তু দোকানে গিয়ে যেন বেহুশ হওয়ার অবস্থা ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আনার একটি আনার ওজন করতেই প্রায় ২০০ টাকা দাম চলে আসছে তিনি অনেক কষ্টে সেটা কিনলো এবং খুব দুঃখের সহিত বলতে শোনা গেল এ বাজারে গরীব মানুষের দেখার কেউ নেই অসুস্থ সন্তানকে একটি আনার খাওয়াতেই দিনের খরচ শেষ।
বিদেশি ফলের দোকানে গেলেই ক্রেতা সাধারণের এ ধরনের অবস্থা হয় বিশেষ করে সাধারণ ভোক্তাদের যারা স্বল্প আয়ের মানুষ তারা যেন বিদেশে ফলের দোকানের ধারে কাছে না যায় এ ধরনের অবস্থা করে রেখেছে ফল বিক্রেতারা। বিদেশি ফলের বাজারেও সিন্ডিকেটের থাবা ফলের আড়ত থেকে পাইকারি মূল্যে ব্যবসায়ীরা ক্রয় করার পর তার দাম বৃদ্ধি হয়ে যায় দ্বিগুণ এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে বিদেশী ফল। একটু বড় সাইজের আনার বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ছয়শ টাকা আপেল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি চারশো টাকা মালটা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি চারশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা কমলা ও একই দাম। ভালো আঙ্গুর বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি পাঁচশো টাকা অন্যান্য ফলের কথা না বললেও চলে কারণ সেগুলো একেবারেই সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে। নগরীর ফল মন্দি পাইকারি বাজার পরিদর্শনে দেখা যায় সেখান থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা খুচরা বিক্রয়ের জন্য ফল সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার সময় দাম থাকে এক ধরনের সেটা প্রস্রা বাজারে গিয়ে হয়ে যায় দ্বিগুণ মূল্য অর্থাৎ এই আড়ত থেকেই অনেকটা নির্ধারণ করা হয় বাইরের বাজারে কিরকম মূল্য নিয়ে ফল বিক্রি করবে। এসব ফলের বাজারে প্রশাসনের বাজার মনিটরিং এর তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যেমন ইচ্ছে তেমন দাম হাঁকাচ্ছে ফল ব্যবসায়ীরা। দোকানগুলোতে নেই কোন মূল্য তালিকা। ব্যবসায়ীরা জানান বিদেশ থেকে ফল এসে অনেক সময় কাস্টমসে আটকে থেকে অনেক ফল নষ্ট হয়ে যায় এসব ফলের দাম পুষিয়ে নিতে উচরা বাজারগুলোতে একটু মূল্যবৃদ্ধি থাকে সবসময়। আমদানি কারকরা বিভিন্ন অজুহাতে বন্ধর থেকে মাল খালাসের ব্যবস্থা না করায় অনেক ফলের কন্টেইনার এখনও বন্দরে আটকে রয়েছে দীর্ঘদিন যাবত। এতে অনেক ফল নষ্ট হয়ে যায় এই নষ্ট হয়ে যাওয়া ফলগুলোর দাম পুষিয়ে নিতে ব্যবসায়ীরা দাম নিয়ে কার সাথে করে বলেও অনেকের অভিযোগ।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বার্তা বিচিত্রাকে জানাই অনেক ব্যবসায়ীদের বারবার চিঠি প্রদান করা হলেও তারা সঠিক সময়ে মাল খালাসের জন্য কাস্টমসের সাথে যোগাযোগ করে না এতে অনেক ফলের কন্টেইনার বন্দরে অলস পড়ে থাকে এতে ফলগুলো নষ্ট হয়ে যায়। সঠিক সময়ে বন্ধক থেকে ফলের কন্টেইনার খালাস করার ব্যবস্থা করলে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবটা অনেকটা কমে আসবে বলেও বন্দরের এক কর্মকর্তা বার্তা বিচিত্রাকে জানান।