সুনামগঞ্জের বৃহৎ বালুমহাল তাহিরপুর উপজেলার 'যাদুকাটা ১ ও ২' বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন উচ্চ আদালত। গত ৭ অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী এবং বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কপি নিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন রিটকারী ব্যবসায়ী রতন মিয়া। তিনি তাহিরপুর উপজেলার ননাই গ্রামের 'মেসার্স সোহাগ এন্টারপ্রাইজ'-এর মালিক ও যাদুকাটা ১ বালুমহালের সাবেক ইজারাদার।

নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের সায়রাত-২ শাখা থেকে নাসির মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ওই বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমোদন দিয়ে আদেশ জারি করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান না করে এককভাবে এই আদেশ দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন রতন মিয়া। রিটের শুনানি শেষে আদালত ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন এবং বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করেন।

এ বিষয়ে রিটকারী রতন মিয়া বলেন, "আমি ইতিপূর্বে বৈধভাবে দরপত্রে অংশ নিয়ে বালুমহাল ইজারা পেয়েছিলাম। কিন্তু এবার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান না করেই ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি একজনকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়। যা আইনসম্মত না হওয়ায় আমি উচ্চ আদালতে রিট করি। আদালত মন্ত্রণালয়ের সেই আদেশ স্থগিত করেছেন। আদালতের নির্দেশের বিষয়টি আজ আবেদনপত্রের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছি।"

আদালতের আদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল জানান, "উচ্চ আদালতের আগের একটি আদেশ স্থগিত হয়েছে। বালুমহাল নিয়ে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট মতামতের জন্য ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেবো। তবে নতুন কোনো আদেশের কপি এখনো আমাদের হাতে পৌঁছেনি। আদালতের যেকোনো আদেশ হাতে পেলে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।