নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রতিবাদ করায় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন এবং নেতৃস্থানীয়রা বক্তব্য রাখেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ৯ অক্টোবর বাঁশবাড়ী সাদরা লেন এলাকায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা শেফালী ও তাঁর স্বামী সোহাগের সঙ্গে এলাকাবাসীর বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই দম্পতি এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে ঘরবাড়ি লুটপাট ও ভাঙ্চুরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও অভিযোগ করেন, মামলার প্রতিবাদ করায় এলাকাবাসীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।
১৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মনজুর আলম বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এলাকার যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে গিয়ে কেউ যেন হয়রানি বা হুমকির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় নিরীহ এলাকাবাসীকে মামলায় জড়ানোর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
১৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. রুহুল আমিন মির্জা জানান, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে গত ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাতে মাদক বিক্রির সময় এলাকার লোকজন বাধা দিলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় শেফালী-সোহাগ দম্পতি ও তাদের সহযোগীরা। এতে এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়ায় এবং মাদকসহ শেফালীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। অন্যরা পালিয়ে গেছে।