বান্দরবানের লামা উপজেলায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আনুষ্ঠানিকতায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে বা প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। মারমা ভাষায় 'ওয়াগ্যোয়াই' অর্থ প্রবারণা পূর্ণিমা এবং 'পোয়ে' অর্থ উৎসব।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিনব্যাপী বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে প্রার্থনা, পূজা ও দানসহ নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। সকাল থেকেই বিভিন্ন পুণ্যার্থীরা সাবেক বিলছড়ি বৌদ্ধ বিহারে সমবেত হন। সেখানে ভক্তরা ভিক্ষু সংঘের উদ্দেশ্যে ছোয়াইং (আহার্য) প্রদান, ফুল পূজা, বুদ্ধ পূজা, পঞ্চশীল প্রার্থনা, সংঘদান ও পিন্ডদান করেন। দুপুরের পর নদীতে কল্পজাহাজ (পোগ্রু) ভাসানো হয় এবং সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও রাতে আকাশপ্রদীপ বা ফানুস ওড়ানো হয়।
গজালিয়া ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মংক্যসিং মার্মা জানান, এ বছর গজালিয়া বৌদ্ধ বিহারে গত ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ৬০ জন উপাসক এবং ৫৪ জন উপাসিকা অষ্টশীল পালনের জন্য বিহারে অবস্থান করেন। দুপুর দুইটায় পাড়াবাসীরা পঞ্চশীল গ্রহণ করেন, বিকেল পাঁচটায় কল্পজাহাজ ভাসানো হয় এবং সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানো হয়।
শিলেরতুয়া মার্মা পাড়ার কারবারী মংপ্রু মার্মা জানান, ওই পাড়ার বৌদ্ধ বিহারে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে পঞ্চশীল প্রার্থনা অন্যতম। পঞ্চশীল প্রার্থনার মূল বিষয়গুলো হলো— প্রাণী হত্যা না করা, চুরি করা থেকে বিরত থাকা, অবৈধ কামাচার বা নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, মিথ্যা না বলা এবং সব ধরনের মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা।
পার্বত্য ভিক্ষু পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক উঃ নন্দমালা থের জানান, এই দিনটি 'আশ্বিনী পূর্ণিমা' নামেও পরিচিত। বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত এই তিন মাস বর্ষাব্রত পালন করেন। এই বর্ষাব্রত পালন শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথিতে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের ত্রাণ শাখার তথ্য অনুযায়ী, প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে লামা উপজেলায় ৯১টি বৌদ্ধ ও ক্রামা মন্দিরে সরকারি বরাদ্দের আওতায় খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে ৬০০ কেজি করে মোট ৫৪ দশমিক ৬০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য প্রদান করা হয়।