ইসরায়েলের নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি ভোট গণনা শেষে এগিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট। প্রাথমিক বুথফেরত জরিপে পিছিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও পরবর্তী গণনায় তাঁর জোটের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান হিসাব অনুযায়ী নেতানিয়াহুর জোট ৫৫ থেকে ৫৬টি আসন পেতে পারে।
বুধবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ২৮ লাখ ভোট গণনা করা হয়েছে, যা মোট ভোটের ৫৬ শতাংশের কাছাকাছি। আংশিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি, যার ভোটের হার ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে নাফতালি বেনেটের টুগেদার জোট পেয়েছে ৯ শতাংশ ভোট।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান হিসাব ধরে নেতানিয়াহুর জোট ৫৫টি আসন পেতে পারে। বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৪৯। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেতে পারে ১৬টি আসন। তবে পরবর্তী পূর্বাভাসে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৫৬ হওয়ার সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক নিদা ইব্রাহিম জানান, ভোট গণনা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতানিয়াহুর অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজন ভোটারের অন্তত একজনের সমর্থন পেয়েছে লিকুদ পার্টি।
এদিকে সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে আরব নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা’আম পার্টি। দলটির নেতা মানসুর আব্বাস জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। গাদি আইজেনকটের শিবিরের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিও তাঁর দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে রা’আম পার্টির পাঁচটি আসন রয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির ক্ষমতায় থাকা জোট সরকারেও অংশ নিয়েছিল দলটি। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দলটির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের নির্বাচনে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট।
তবে ভোট গণনা এখনো শেষ না হওয়ায় আসনসংখ্যার পূর্বাভাস পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরই ইসরায়েলে সরকার গঠনের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে।