১০০ গ্রাম প্লাস্টিক জমা দিলেই শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সুযোগ।
পরিবেশ দূষণ রোধ, প্লাস্টিক বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বিনামূল্যে প্রবেশের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ও সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়ায় পরিচ্ছন্নতা এবং মশকনিধন কর্মসূচির পাশাপাশি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরি করতেই প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দেওয়ার বিনিময়ে চিড়িয়াখানায় বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ চালু করা হয়েছে। এতে একদিকে শিশুরা পরিবেশ রক্ষায় উৎসাহিত হবে, অন্যদিকে প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা কমবে। সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই উদ্যোগের আওতায় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনামূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারবে। উল্লেখ্য, চিড়িয়াখানায় সাধারণ প্রবেশ টিকিটের মূল্য ৭০ টাকা।
চিড়িয়াখানার উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেখানে জেব্রা ও কুমির আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি শিশুদের মুঠোফোনের পর্দায় সীমাবদ্ধ না থেকে প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রাণিজগতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ড. শাহাদাত হোসেন বলেন, একক কোনো সংস্থার পক্ষে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং নগরবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি ফয়’স লেকসংলগ্ন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, পাহাড়ি ছড়া ও প্রাকৃতিক জলাধার দূষণমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নগরের ফুটপাত ও সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী রাখতে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের যৌথ অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত বোতল ও ডাবের খোসা যত্রতত্র না ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও আঙিনায় কোথাও যেন পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে জাপান থেকে ২০টি কমপ্যাক্টর ডাম্প ট্রাক সিটি করপোরেশনের বহরে যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসনের চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, গত ২৫ জুলাই পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে তিন হাজারের বেশি সরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি বর্গফুট এলাকা থেকে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এতে ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ২ হাজার ২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে কাজীবাড়ি পুকুর, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং প্রায় ১০০টি হোটেল-রেস্তোরাঁর রান্নাঘর ও আশপাশ পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান (সি), পিসিএসসি, বিএন; জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়ায় পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।