সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাটে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের পাইপলাইন স্থাপন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে স্থাপন করা পাইপলাইন তুলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে পুনরায় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে বাদাঘাট বাজারে বাদাঘাট ইউনিয়নের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী পাইপলাইনের নিচে ও ওপরে ছয় ইঞ্চি করে বালু দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও পাইপলাইনের নিচে কিংবা ওপরে কোথাও নির্ধারিত পরিমাণ বালু ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। এতে পাইপলাইনের স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, কাজের অনিয়ম স্থানীয়দের নজরে আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে তিনি সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করে নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশনা দেন। কিন্তু এরপরও আগের পদ্ধতিতেই কাজ চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জনস্বার্থ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ পানির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আমির শাহ বলেন, পাইপলাইনের নিচে ও ওপরে নির্ধারিত পরিমাণ বালু দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্টরা তা মানছেন না। ইতোমধ্যে যেসব পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো তুলে প্রাক্কলন ও শিডিউল অনুযায়ী বালু দিয়ে পুনরায় স্থাপন করতে হবে।
বণিক সমিতির অর্থবিষয়ক সম্পাদক মুখলেছুর রহমান বলেন, বাদাঘাট, কামরাবন্দ ও মল্লিকপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণে সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু পাইপলাইনের নিচে ও ওপরে বালু না দিলে ভবিষ্যতে পাইপে লিকেজ বা ক্ষতি হলে মাটি ও জীবাণু প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পের কাজ যথাযথ নিয়মে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা মো. আজিজুল রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ডা. হাবিবুর রহমান, জেলা যুবদল নেতা এম এম মাহবুবুর মুল্লিক, কামরাবন্দ গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরাফুল ইসলাম সাদ্দামসহ বাদাঘাট ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা দ্রুত প্রকল্পের কাজের অনিয়ম তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।