ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অপেক্ষায় ইসরায়েল

Date: 2026-04-25
news-banner

ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Israel Katz। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি জানান, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনী বর্তমানে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো সামরিক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে “সবুজ সংকেত” পাওয়া গেলে ইসরায়েল দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।

কাৎজের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হবে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দেওয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরায়েল সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এমন বক্তব্য নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও দাবি করেন, সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা বা পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় দেশটির সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখেই পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করা হবে।

এই মন্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-কেও ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এটি কেবল সামরিক বার্তা নয়, বরং তেহরানের ওপর রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির প্রচেষ্টাও হতে পারে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংবেদনশীল অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz এবং ইসরায়েলের উত্তর সীমান্ত ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরায়েলের এ ধরনের কড়া অবস্থান মূলত সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে সতর্ক করার কৌশল। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেও কাজ করতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ কৌশলগত অবস্থান ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সূত্র: Middle East Monitor

Leave Your Comments