সমাজকল্যাণমন্ত্রী A.Z.M. Zahid Hossain বলেছেন, শুধু ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বা কৃষি ঋণ মওকুফের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বর্তমান সরকার কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে নানা ধরনের প্রণোদনা ও সহায়তা কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) Birampur Upazila উপজেলা পরিষদ হলরুমে কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষকরা যাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক উৎপাদন করতে পারেন, সেজন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। কৃষি খাতকে আরও উৎপাদনমুখী ও টেকসই করতে বিভিন্ন পর্যায়ে বীজ, সার, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের উন্নয়ন মানেই দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন। একটি এলাকার কৃষি উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
বৈশ্বিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী নানা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কৃষি খাতকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে ২০ জন কৃষকের মাঝে মুগডালের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। এছাড়া ৫ জন কৃষকের হাতে উন্নতমানের মৌবক্স তুলে দেওয়া হয়, যাতে মৌমাছি পালন ও বিকল্প কৃষি উদ্যোগ সম্প্রসারণ সম্ভব হয়।
কৃষি প্রণোদনা বিতরণ শেষে মন্ত্রী কুমিল্লায় সংঘটিত এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার সাতটি পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) Tanjina Khatun। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা Komol Krishna Roy-সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, এ ধরনের প্রণোদনা কার্যক্রম কৃষি উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহ জোগায় এবং কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি ও বিকল্প আয়ের উৎসের দিকে আগ্রহী করে তোলে।