ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ইউক্রেনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জুলি ডেভিস দায়িত্ব ছাড়তে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এতে ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত সামনে এলো, যখন রাশিয়ার সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম Financial Times–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কিয়েভ ত্যাগ করতে পারেন জুলি ডেভিস। এর ফলে ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদ শূন্য হয়ে পড়তে পারে।
সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের মে মাস থেকে ইউক্রেনে দায়িত্ব পালন করা ডেভিস প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে একমত ছিলেন না। বিশেষ করে ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমে যাওয়ায় তিনি হতাশ ছিলেন। এর আগে একই ধরনের মতপার্থক্যের কারণে তার পূর্বসূরি Bridget Brink পদত্যাগ করেছিলেন।
জানা গেছে, ডেভিস ইতোমধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। প্রায় তিন দশকের কূটনৈতিক জীবনের ইতি টানতে যাচ্ছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি Cyprus–এ যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দাবি করেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মতবিরোধের কারণেই তিনি পদ ছাড়ছেন— এমন তথ্য সঠিক নয়। দপ্তরের মুখপাত্র জানান, ডেভিস ট্রাম্প প্রশাসনের শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন করেন এবং নির্ধারিত সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে ভেতরে ভেতরে মতপার্থক্য বাড়ছে। বিশেষ করে Ukraine–কে ঘিরে ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।