দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় মাঠপর্যায় থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের চূড়ান্তভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৬ জুন থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে এবং ধাপে ধাপে জুন মাসের মধ্যেই তা সম্পন্ন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সেনা মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথমে দূরবর্তী জেলা থেকে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করা হবে। পরে বিভাগীয় শহর ও বড় জেলাগুলো থেকে ধাপে ধাপে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠলে তৎকালীন সরকার কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী নামায়। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর পুলিশ বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ায় সেনাবাহিনী মাঠে থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। পরে অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও প্রদান করে।
নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার অংশ হিসেবে এই প্রত্যাহার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন মাঠে দায়িত্ব পালনের কারণে সেনাসদস্যদের বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তাও এ সিদ্ধান্তের পেছনে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো পর্যালোচনা এবং আগের সরকারের সময়ে দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পুনর্বিবেচনা।
এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং পুলিশের নির্ধারিত নতুন পোশাক বহাল রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সরকার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে গেলে দেশের বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও স্বাভাবিক গতিতে পরিচালিত হবে।