যশোরের Noapara–এ ব্যবসায়ী Anisur Rahman হত্যার ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের স্ত্রী Nahida Islam বাদী হয়ে Abhaynagar Police Station–এ মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা হলেন উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের Shah Md. Mahmud এবং Nasir। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে আনিছুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৪৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শাহ মো. মাহমুদ কোমর থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল বের করে আনিছুর রহমানকে একাধিকবার কোপ দেন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে।
নিহত আনিছুর রহমান সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার তুলসীডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ব্যবসায়িক কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভয়নগরের গুয়াখোলা এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের পরিচালক এবং নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুয়াখোলা গ্রামের পীরবাড়ী মসজিদের সামনে নিজের নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবন ‘আনিছ ট্রেড ভ্যালী’ এলাকায় ম্যানেজার রেজাউল ইসলামের সঙ্গে কথা বলছিলেন আনিছুর রহমান। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা সেখানে প্রবেশ করে। পরে গালিগালাজের একপর্যায়ে শাহ মো. মাহমুদ তার কাছে থাকা ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আনিছুর রহমানের মুখের বাম পাশে কোপ দেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইসলাম দাবি করেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার প্রতিবাদে নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ীরা বৃহস্পতিবার দোকানপাট বন্ধ রেখে বিক্ষোভ পালন করেন। Noapara Fertilizer, Cement and Food Grain Traders Association–এর সাধারণ সম্পাদক Shah Jalal Hossain বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার না করা হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা SM Nuruzzaman জানান, হত্যা মামলার তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।