জাদুকাটা নদীতে অবৈধ ড্রেজার তাণ্ডব, ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপর হামলা, একজনের ৯০ দিনের কারাদণ্ড

Date: 2026-05-09
news-banner

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের আলোচিত-সমালোচিত নদী রূপের রাণী জাদুকাটা। এ নদীর পার কেটে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংস হচ্ছে এশিয়ার ২য় বৃহত্তর জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান। এছাড়া হুমকিতে রয়েছে স্কুল, মসজিদ এবং মানুষের বসতবাড়ি। 

নদীতে ড্রেজার চালানো বন্ধ থাকার  সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও অবৈধভাবে দুই একজন  সরকারি কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে রাত ড্রেজার তাণ্ডবে বসতবাড়ি বিলিন হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। শুধু বালু উত্তোলন নয়, জাদুকাটা নদীতে বিআইডব্লিটিএ ও  খাসকালেকশন এবং টুল ট্যাক্সের ফাঁদে ফেলে শ্রমিক নির্যাতন করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে ইজারাদাররা। এসব বিষয় নিয়ে ২০ এবং ২৪ এপ্রিল দুই পর্বের ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি। এর পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গত ২৬ এপ্রিল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দের স্বাক্ষরিত এক আদেশে রবিউর রায়হান নামের একজন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিব ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে টাক্সফোর্স টিম গঠন করা হয়।  

এরই ধারাবাহিকতায় জাদুকাটা নদীতে চলমান টাস্কফোর্স অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার রাত ১২ টা ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রবিউর রায়হানের নেতৃত্বে টাক্সফোর্সের অভিযান চালিশে একটি ড্রেজার ও ২ টি স্টিল বডি নৌকা আটক করলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপর হামলা চালায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী চক্র। হামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের স্পিডবোড চালাক সহ দুইজন আহত হয়েছেন। এঘটনায় মিলন মিয়া নামের এক বালু খেকুকে ৯০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।

বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ(এসআই) নাজমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, জাদুকাটা নদীতে চলমান টাস্কফোর্স অভিযানের অংশ হিসেবে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রবিউর রায়হানের নেতৃত্বে শনিবার রাত  ১২ টা হতে সকাল ৬ টা পর্যন্ত অবৈধভাবে পার কেটে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালিত হয়। রাত আনুমানিক ১ টা ২০ মিনিটের দিকে বিশ্বম্ভপুরের উপজেলার সত্রিশ গ্রামে অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলনের সময় ২টি স্টিলবডি নৌকা ও ৩টি ড্রেজারবাহী কাঠের নৌকা সনাক্ত করা হয়। এসময়  মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) এর  উপস্থিতি টের পেয়ে বালু খেকুরা দৌড়ে পালায়। পরবর্তীতে নৌকা ও ড্রেজার জব্দ করে নিয়ে আসার জন্য নৌ-পুলিশকে দুইজন মাঝি আনতে বলা হয় এবং মোবাইল কোর্ট টিম সেখানে অবস্থান নেয় এর কিছুক্ষণ পর সত্রিশ গ্রামের কয়েকশত মানুষ নদীর পাড়ে একত্র হয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে উপর হামলা করলে পাথর নিক্ষেপ শুরু করলে এই সংঘবদ্ধ চক্র। হামলায় স্পীডবোটের ড্রাইভার আহত হয় এবং টিম নিয়ে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পিছু হটতে বাধ্য হন। 
পরবর্তীতে নৌ-পুলিশ ও বাদাঘাট পুলিশ-ফারির সহোযোগিতায় পুনরায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ২টি বাল্কহেড ও ১টি ড্রেজারবাহী নৌকা ঘটনাস্থল হতে জব্দ করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল হতে একটি বাল্কহেডের মালিক মিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বাল্কহেডের মালিকের সাক্ষ্য অনুযায়ী কয়েকজন দুষ্কৃতকারীর নাম সংগ্রহ করা হয়। এসময় ওই বাল্কহেড মালিক মিলন মিয়াকে ৯০ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া হামলায় ঘটনায় নিয়মিত মামলা করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিব ম্যাজিস্ট্রেট রবিউর রায়হান বলেন, জাদুকাটা নদীতে চলমান টাস্কফোর্স অভিযানের অংশ হিসেবে রাতে খবর পাই নদীতে ড্রেজার চালিয়ে পার কেটে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। খবর পেয়েই অভিযান চালিয়ে রাত ১ টা ২০ মিনিটের দিকে বিশ্বম্ভপুরের সত্রিশ গ্রামে কিছু লোক অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ২টি স্টিলবডি নৌকা ও ৩টি ড্রেজারবাহী কাঠের নৌকা সনাক্ত করা হয়। পরে নৌকা ও ড্রেজার জব্দ করে নিয়ে আসার পতে ওই গ্রামের শতাধিক লোক হামলা চালিয়ে স্পীডবোড চালকসহ দুইজনকে আহত করে। আমি নিজেও হামলার স্বীকার হই।  এঘটনায় সত্রিশ গ্রামের বাল্কহেড মালিক মিলন মিয়াকে ৯০ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ টাস্কফোর্স অভিযান বা মোবাইল কোর্ট প্রতিদিন চলমান রয়েছে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ মে  জাদুকাটা নদীতে রাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে একজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন টাক্সফোর্স।

Leave Your Comments