ইরানের তেল শোধনাগারে গোপনে হামলা চালিয়েছে আরব আমিরাত

Date: 2026-05-12
news-banner

যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলইরান–এর চলমান সংঘাতের মধ্যেই নতুন এক বিস্ফোরক দাবি সামনে এসেছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোপনে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এমনকি ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারেও দেশটি হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (১১ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই আরব আমিরাত গোপনে ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ইরানের লাভান দ্বীপ–এর একটি তেল শোধনাগার ছিল অন্যতম লক্ষ্য। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিলের শুরুতে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় ওই শোধনাগারে হামলা চালানো হয়। এতে সেখানে বড় ধরনের আগুন লাগে এবং স্থাপনাটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

এর জবাবে ইরান ইউএই ও কুয়েত–এর দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সূত্রগুলোর একটির ভাষ্য, যুদ্ধে আমিরাতের এই সম্পৃক্ততাকে যুক্তরাষ্ট্র নীরবে সমর্থন জানিয়েছিল।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, ইরান অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় আরব আমিরাতে বেশি হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলকেও ছাড়িয়ে উপসাগরীয় এই দেশটির ওপর দুই হাজার ৮০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।

এসব হামলার প্রভাবে আরব আমিরাতের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই, বাধ্যতামূলক ছুটি এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে বলে জানিয়েছে উপসাগরীয় কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের দাবি, আরব আমিরাত এখন ইরানকে এমন এক ‘বেপরোয়া শক্তি’ হিসেবে দেখছে, যে দেশটি প্রবাসী দক্ষ জনশক্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা আমিরাতের অর্থনৈতিক কাঠামো দুর্বল করতে চায়।

এদিকে হামলার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কিছু জানায়নি। তবে তারা আগের এক বিবৃতির কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে আবুধাবির বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের জবাব দেয়ার অধিকার দেশটির রয়েছে বলে বলা হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক দীনা এসফানদিয়ারি বলেন, ‘উপসাগরীয় কোনও আরব দেশ সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছে— এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।’ তার মতে, এখন তেহরান চেষ্টা করবে আরব আমিরাত ও যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা অন্যান্য উপসাগরীয় আরব দেশের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে।

Leave Your Comments