নিজস্ব প্রতিবেদক:
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও একাডেমিক শাটডাউন চলমান রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরের শিক্ষক হিসেবে ভিসি পদে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে শুরু থেকেই একটি বিভাজন তৈরি হয়। শুরুতেই বিএনপির একাংশ এবং জামাতপন্থী শিক্ষকরা বাহির থেকে ভিসি নিয়োগের বিরুদ্ধে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছিলেন।
সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারী মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন-পূর্ববর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ এবং ভিসির একাধিক বক্তব্য থেকে জানা যায়, প্রোভিসি প্রফেসর হেমায়েত জাহানের নেতৃত্বাধীন শিক্ষকরা ছাত্র বিষয়ক
উপদেষ্টা নিয়োগ এবং বিভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতির জন্য ভিসির ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। তবে সেগুলো নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় ভিসি তা বাস্তবায়ন না করায় তারা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন।
নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পরিবর্তনের ধারাবাহিকতার মধ্যে গত ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসির অনুসারী কতিপয় শিক্ষক ও কর্মচারীরা ভিসিকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। এ সময় দুমকি উপজেলা যুবদল নেতা রিপন শরীফের নেতৃত্বে একদল বিএনপি সমর্থক নেতাকর্মী ৪/৫ জন শিক্ষক কর্মকর্তার ওপর হামলা চালায়। পরবর্তীতে ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার কর্মসূচি রূপ নেয় ভিসিবিরোধী অবস্থান কর্মসূচিতে। উক্ত অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের একাংশের সাথে যুক্ত হয়ে নিয়মিত কর্মসূচি পালনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত একাডেমিক কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশনা উপেক্ষা করে একাডেমিক শাটডাউন চালিয়ে যান আওয়ামীপন্থী একাংশের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।
এই অবস্থান কর্মসূচির নেতৃত্বে দেখা যায় প্রফেসর মোহাম্মদ আতিকুর রহমানকে। তিনি ইতোপূর্বে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হিসেবে ব্যাপক পরিচিত এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সেক্রেটারি ও শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি প্রফেসর ড.মো: আসাদুজ্জামান মিয়া মুন্নার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিতি। এছাড়া আওয়ামী সমর্থনে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে জয়লাভ করেন তিনি।
এছাড়াও ক্যাম্পাসের মব সৃষ্টির মাস্টারমাইন্ড অবস্থান কর্মসূচীর মিডিয়া কভারেজে পরিচিত মুখ প্রফেসর আবুল বাশার খান তিনি ছিলেন সাবেক জামায়াতী ভিসি লতিফ মাসুমের পালক পুত্র ও আওয়ামী লীগ আমলে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগীদের মধ্যে অন্যতম।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অবস্থান কর্মসূচির অন্যতম ব্যক্তি কম্পিউটার বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক খোকন হোসেন, যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্ত্রীকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকুরিসহ বিভিন্ন সুবিধাভোগী এবং তিনি ও তার স্ত্রী আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
তার ছোটভাই খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রভাবশালী কর্মকর্তা। বর্তমানে বিএনপিপন্থী শিক্ষক হিসেবে খোকন হোসেন আন্দোলনে সক্রিয়।
এছাড়াও আন্দোলনে অংশ নেওয়া আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন প্রফেসর এস. এম. তাওহিদুল ইসলাম-যিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ প্যানেল থেকে নির্বাচিত সহ-সভাপতি ছিলেন।প্রফেসর ড. শাহাবুবুল আলম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ প্যানেল থেকে নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক; প্রফেসর ড. কাজী শারমিন আক্তার, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক; এবং প্রফেসর ড. নুরুল আমিন, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও সর্বশেষ উপদেষ্টা কমিটির সদস্য, ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তা তানজিল হোসেন।
ইতিপূর্বে এরা ভিসি কাজী রফিকুল ইসলামের বাসভবনে মব সৃষ্টি করে কৃষি অনুষদের ডীন, জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. দেলোয়ার হোসেনকে অব্যহতি দিতে বাধ্য করান। এর পূর্বে পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ইকতিয়ার উদ্দিনকে পদত্যাগ ও বর্তমান রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমানের অফিস কক্ষে মব সৃষ্টি করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর একটি পত্রে স্বাক্ষর করান।
এসব আওয়ামীপন্থী শিক্ষক কর্মকর্তারা প্রোভিসি হেমায়েত জাহানের অনুসারী
বিএনপিপন্থীদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়া এবং এসব ফ্যাসিস্টদের প্রশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাধারণ hশিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বিএনপিপন্থী সিনিয়র শিক্ষক জানান, "ক্যাম্পাসে যা হচ্ছে তাতে আমাদের দলের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং প্রোভিসি ফ্যাসিস্ট ও জামায়াতপন্থীদের নিয়ে গ্রুপ ভারী করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট কর ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক কর্মকর্তা জানান, "ভিসি বিরোধী আওয়ামী-জামায়াতীদের অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে মূলতঃ মব সৃষ্টি করে ভিসি তাড়ানোর নীলনক্সা ছাড়া অন্য কিছু নয়।"এ ব্যাপারে শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান," মব সৃষ্টি করে কেহ ভিসি তাড়ানোর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন.ম এহসানুল হক মিলন বলেন," কোন ভিসির বিরুদ্ধে কারো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে স্হানীয় এমপির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করতে পারেন।কোন ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অকারণে মব সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয় অস্থির করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"