সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি হিমাদ্রী শেখর ভদ্রসহ তিনজনকে আসামী করে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সুনামগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট(সুনামগঞ্জ সদর কোর্ট) আদালতে দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি ও ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্টের জেলা প্রতিনিধি আল আমিন মামলাটি দাখিল করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জসিম পিবিআইকে তদন্তের জন্য দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী এ.টি.এম সারওয়ার।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জাদুকাটা নদীতে চাদাঁবাজি চলছে। চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ ও প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়েও অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার না পেয়ে সাংবাদিকদের কাছে আসেন ভোক্তভোগীরা। ভোক্তভোগীদের তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি ও ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্টের জেলা প্রতিনিধি আল আমিন ১৭ এপ্রিল ২০২৬ সরজমিন জাদুকাটা নদীতে অনুসন্ধানে যান। গিয়ে হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী চাঁদাবাজসহ ইজারাদার ও মামলার আসামীরা সাংবাদিক আল আমিনকে ম্যানেজ করার জন্য লাখ টাকার অফার করে ব্যার্থ হন। পরে গত ১৮ এপ্রিল সময় টিভিতে "সুনামগঞ্জে ভূয়া সাংবাদিকের চাঁদাবাজি, হাতেনাতে ধরা" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। ওই প্রতিবেদনে উদ্দ্যেশ্যে প্রণোদিত হয়ে বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিডিও দিয়ে তথ্য প্রচার ও সম্প্রচার করা হয়েছে। এই ভূয়া সংবাদ প্রচার করায় সাংবাদিক আল আমিনের সামাজিক ও পারিবারিকভাবে মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এতে তিনি ১০ কোটি টাকার ক্ষতির মূখে পরেছেন। যা তার পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এতে আসামী করা হয়েছে সময় টিভির সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিমাদ্রী শেখর ভদ্র, ফাজিলপুর ট্যুল ট্যাক্সের ইজারাদার জবা মিয়া ও চাচাতো ভাই চাঁদাবাজ মোঃ সারওয়ার আলম।
বাদী সাংবাদিক আল আমিন বলেন, যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে সেটি আসলে অনিয়ম, দুর্নীতির তথ্য সংগ্রাহ করতে গেলে ওখানের স্থানীয় চাঁদাবাজরা আমাকে ম্যানেজ করা চেষ্টা করে। ম্যানেজ করতে না পারায় আমার বিরুদ্ধ মিথ্যা তথ্য দিয়ে সময় টিভিতে গুজব প্রকাশ করায়। প্রতিবেদনে আমার কোনো বক্তব্যে না দিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এতে আমার সামাজিক ও পারিবারিকভানে মানসম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। যার ফলে আমি ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেছি। আমি ন্যায় বিচার চাই। আশা করি আদালতে আমি ন্যায় বিচার পাবো।
বাদীর আইনজীবী এ.টি.এম সারওয়ার বলেন, আমার মোয়াক্কালের ন্যায় বিচারের জন্য আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে মাননীয় আদালতের বিচারক পিবিআইকে তদন্তের জন্য দিয়েছেন। আমার ময়োক্কেলের সময় টিভিতে সংবাদ প্রচার করে মানহানি হয়েছে বলে ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়। এতে সময় টিভি জেলা প্রতিনিধি হিমাদ্রী শেখর ভদ্রগংদের আসামী করা হয়েছে।এর আগে ১০ কোটি টাকার মানহানি অভিযোগ এনে সময় টিভি এমডিসহ সাতজনের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি।
উল্লেখ্য, এর আগে ১২ মে ২০২৬ তারিখে ১০ কোটি টাকার মানহানি উল্লেখ করে সময় টিভির এমডি আহমেদ জুবায়ের, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা(সিইও) জুবায়ের বাবু, বার্তা প্রধান, ডিজিটাল প্রধানসহ সাত জনের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের সময় দিয়ে সরকারি ডাক বিভাগের মাধ্যমে নিগ্যাল নোটিশ পাঠান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও জেলা দায়রা জজের আইনজীবী এ.টি.এম সারওয়ার।