জনবল সংকটে ধুঁকছে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

Date: 2026-06-11
news-banner

মাদারীপুর প্রতিনিধি: 

জনবল সংকটসহ নানামুখী সমস্যায় চরম দুর্ভোগে জর্জরিত মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১০০ শয্যার আধুনিক ভবন থাকলেও চিকিৎসাসেবা চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতালেরও কম জনবল দিয়ে। ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, রোগীর চাপ থাকলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক রোগীকে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়। আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন আইসিইউ কক্ষ থাকলেও তা তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। গাইনি ওয়ার্ডেও নেই কার্যকর সেবা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে রোগীদের অনেককেই জেলা বা রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে।

হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতিও নাজুক। পরিচ্ছন্নকর্মীর অভাবে টয়লেট ও গোসলখানায় ময়লা পানি জমে থাকে, ছড়ায় দুর্গন্ধ। এতে রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের দুটি লিফট দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় ভর্তিকৃত রোগীদের ৪র্থ ও ৫ম তলায় নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বজনদের। ট্রলিম্যান না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে মুমূর্ষু রোগীদের ভ্যানে বা কাঁধে করে বহন করতে হয়।

চিকিৎসা নিতে আসা শাহাবুদ্দিন মাদবর বলেন, “এত বড় একটি হাসপাতাল অথচ ডাক্তার পাওয়া যায় না। পরিচ্ছন্নকর্মী নেই, নার্সও প্রয়োজনের তুলনায় কম। টয়লেটের অবস্থা এত খারাপ যে সেখানে গেলে বমি আসে। রোগীদের খাবারের মানও ভালো নয়। আধুনিক হাসপাতাল হলেও সেবার মান হতাশাজনক।”

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের তদারকি নেই বললেই চলে। আইসিইউ কক্ষ থাকলেও তা ব্যবহারের কোনো ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দুটি লিফটই নষ্ট থাকায় রোগী পরিবহনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অনুমোদিত পদের তুলনায় বিপুল সংখ্যক জনবল শূন্য রয়েছে। জুনিয়র কনসালটেন্টের ১০টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৭ জন। সহকারী সার্জন ও মেডিকেল অফিসারের ৪১টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৬ জন। নার্স ও মিডওয়াইফের ৩৭টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৩০ জন। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ৮টি পদের মধ্যে মাত্র ৩ জন কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া স্যাকমো, ফার্মাসিস্ট, ওয়ার্ড বয়, আয়া, পরিচ্ছন্নকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও মালি পদে রয়েছে ব্যাপক শূন্যতা।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফাতেমা মেহজাবিন বলেন, “রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা আন্তরিক। তবে জনবল সংকটের কারণে সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। ১০০ শয্যার নতুন ভবন পেলেও সে অনুযায়ী জনবল বাড়ানো হয়নি। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।”

দ্রুত জনবল নিয়োগ, বিকল লিফট মেরামত, আইসিইউ চালু এবং হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, আধুনিক ভবন নির্মাণ করলেই হবে না, প্রয়োজন পর্যাপ্ত জনবল ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

Leave Your Comments