নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ব্যস্ততম মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার মারীখালী সেতুর নিচে গড়ে ওঠা ময়লার ভাগাড়ের কারণে চরম দুর্ভোগ ও দুর্গন্ধের শিকার হচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। অবশেষে সেই জনভোগান্তির অবসানে ময়লার স্তূপ অপসারণে সরাসরি মাঠে নেমেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকে সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মারীখালী সেতুর নিচে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জমে থাকা বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজ শুরু করা হয় এবং পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর নিচে বিভিন্ন স্থান থেকে এনে ময়লা ফেলা হচ্ছিল। ফলে সেখানে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ, যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, মারীখালী সেতুর নিচে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা আজ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছি এবং সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, তিন ধাপে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। প্রথম ধাপে বর্তমান ময়লার স্তূপ সম্পূর্ণ অপসারণ ও এলাকা পরিষ্কার করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে সেখানে যাতে আর কেউ ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তৃতীয় ধাপে উপজেলার জন্য একটি নির্ধারিত ও পরিবেশসম্মত স্থায়ী ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সোনারগাঁ গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল হক, পরিবেশ রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. হোসাইন, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, উপজেলা যুবদল নেতা রাকিব হাসান এবং পরিবেশ রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটির মহাসচিব মীযানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।