বাগবাটির গাড়ুদহ মহব্বত হাসান শিশু সদন উচ্চ বিদ্যালয়ে এডহক কমিটি নিয়ে ক্ষোভ, প্রস্তাবিত সভাপতির তালিকা বাতিল ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মুকুল হোসেন

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের গাড়ুদহ মহব্বত হাসান শিশু সদন উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত সভাপতির তালিকা বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নতুন করে কমিটি গঠনের দাবিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মাধ্যম করে  জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী এবং ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এডহক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে। ওই আবেদনে এডহক কমিটির সভাপতির জন্য পর্যায়ক্রমে ড. মোঃ হারুন অর রশিদ, হাসান মোঃ মাহমুদুল হক ও মোঃ আব্দুল বাতেনের নাম প্রস্তাব করা হয়।

তবে প্রস্তাবিত তিন সভাপতির নাম নিয়েই আপত্তি তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত তিনজনই সাবেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পরিবারের সদস্য, তাদের মধ্যে ভাই ও ভাতিজার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম সভাপতির প্রস্তাবিত তালিকায় থাকায় কমিটি গঠনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোঃ আল আমিন চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আল আমিন মণ্ডল স্থানীয় জনগণ কিংবা ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা না করেই দীর্ঘদিন ধরে একক সিদ্ধান্তে কমিটি পরিচালনা ও সভাপতি নির্বাচনের চেষ্টা করে আসছেন। এবারও একইভাবে এবারো সভাপতি নির্বাচিত করার পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আল আমিন চৌধুরীর দাবি, দীর্ঘদিনের এ ধরনের একক সিদ্ধান্তের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় বিতর্কিত কোনো ব্যক্তিকে এডহক কমিটির সভাপতি করা হলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অভিযোগকারীরা বলেন, বিদ্যালয় একটি সর্বজনীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় এডহক কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

এ কারণে প্রস্তাবিত তিন সভাপতির নাম পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আল আমিন মণ্ডলের কাছে জানতে চাইলে শ্যামল বাংলার প্রতিনিধিকে বলেন আমি  অন্য কাউকে কমিটির বিষয়ে জানানোর প্রয়োজন মনে করিনা,এখনকার স্থানীয় দুএকজন বিএনপির জানে আর তারা তো আওয়ামীলীগের করে ঠিক আছে কিন্তু কোন পোস্ট পদবীতে নাই।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি কি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় গঠিত হবে, নাকি একটি পরিবারের প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকেই সভাপতি নির্বাচিত করা হবে? বিষয়টি এখন জেলা প্রশাসনের তদন্ত ও সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।