প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সময়: ১১:৪২ এএম
কুলিয়ারচরের তরুণ চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন- এর গল্প
মোঃ মাইন উদ্দিন :
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর পদ নয়, তাঁর কাজ এবং আচরণ। মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা এবং আলোচনা সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতাই একজন জনপ্রতিনিধিকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। এ জায়গা থেকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ মোবারক হোসেনকে আমার কাছে একজন দায়িত্বশীল তরুণ জনপ্রতিনিধি হিসেবে মনে হয়েছে।
২০২৪ সালে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর গত প্রায় দুই বছর ধরে তিনি ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বয়সে তরুণ হলেও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর মধ্যে যে পরিণতিবোধ, ধৈর্য ও সহনশীলতা রয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তরুণদের দায়িত্বশীল নেতৃত্বের এমন উদাহরণ আমাদের আশাবাদী করে।
ব্যক্তিগতভাবে আমি গত দুই বছরে তাঁর কর্মকাণ্ডকে কাছ থেকে দেখেছি। ইউনিয়ন পরিষদের সামনে, পেছনে এবং আশপাশের চায়ের দোকানের আড্ডায় মানুষের নানা ধরনের আলোচনা সমালোচনা শুনেছি, কিন্তু মোবারক হোসেনকে ঘিরে তেমন কোনো অভিযোগমূলক বক্তব্য বা নেতিবাচক সমালোচনা আমার কানে আসেনি। অবশ্যই এর অর্থ এই নয় যে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর কোনো ভুল-ত্রুটি নেই। মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর আচরণ এবং দায়িত্ব পালনের ধরন যে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের অসন্তোষ তৈরি করেনি- এটিও কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।
আমাদের দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলো মূলত সাধারণ মানুষের সবচেয়ে কাছের সরকারি প্রতিষ্ঠান। গ্রামের একজন মানুষ তাঁর নাগরিক জীবনের নানা প্রয়োজনেই ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারস্থ হন। জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে মৃত্যুনিবন্ধনসহ বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, সামাজিক নিরাপত্তা, স্থানীয় বিরোধ, উন্নয়নমূলক কাজ কিংবা নানা নাগরিক সমস্যায় একজন চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে একজন জনপ্রতিনিধির সততা, ধৈর্য ও মানুষের আলোচনা সমালোচনা শোনার মানসিকতা খুবই প্রয়োজন।
মোবারক হোসেনের মতো তরুণরা যদি দায়িত্ব পাওয়ার পর পদকে ক্ষমতার জায়গা হিসেবে না দেখে সেবার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন, তাহলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবেই। বয়স কম হওয়া কোনো দুর্বলতা নয়, বরং অভিজ্ঞদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে মেধা, সততা ও কর্মদক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে তরুণ নেতৃত্বই অনেক সময় নতুন পথ দেখাতে পারে।
তবে জনপ্রতিনিধির প্রশংসা করার পাশাপাশি একটি কথা মনে রাখা জরুরি- জনপ্রতিনিধির প্রতি মানুষের প্রত্যাশা সবসময়ই বেশি। আজ যে মানুষটি দায়িত্বশীল, আগামী দিনেও তাঁকে সেই দায়িত্বশীলতা ধরে রাখতে হবে। মানুষের আস্থা অর্জন করা যেমন কঠিন, তা ধরে রাখা আরও কঠিন। তাই মোবারক হোসেনের জন্যও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভবিষ্যতেও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সহনশীলতার এই ধারা অব্যাহত রাখা।
আমরা চাই, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে শুধু ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নয়, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে এমন মানুষ দায়িত্বে আসুক, যাঁরা দল-মত কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের কথা ভাববেন। চেয়ারম্যানের চেয়ার যেন কারও কাছে ক্ষমতার প্রতীক না হয়ে মানুষের সেবার দায়িত্ব হয়ে ওঠে। জনপ্রতিনিধির পরিচয় যেন তাঁর পদে নয়, তাঁর কর্মে তৈরি হয়।
মোঃ মোবারক হোসেনের মতো তরুণ ও দায়িত্বশীল মানুষদের হাত ধরে স্থানীয় সরকার আরও জনবান্ধব ও কার্যকর হবে- এটাই প্রত্যাশা। ভবিষ্যতেও ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে আমরা এমন দায়িত্বশীলদেরই দেখতে চাই, যেখানে মানুষের অভিযোগের চেয়ে প্রশংসার কথাই বেশি শোনা যাবে।