প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সময়: ১২:৩৪ পিএম
সাতক্ষীরা পৌরসভায় বিএনপির টিকিট কার হাতে? পুরোনো ভোটের অঙ্কে নতুন সমীকরণ
সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সাতক্ষীরা পৌরসভায় বিএনপির দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভোট, জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালে। ওই নির্বাচনের তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভায় মোট ভোটার ছিলেন ৮৯ হাজার ২২৪ জন। ভোট দেন ৫৫ হাজার ৯২৬ জন।
২০২১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তাসকিন আহমেদ চিশতি ২৫ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসিম ফারুক খান মিঠু পান ১৩ হাজার ২২১ ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ নাসেরুল হক পান ১৩ হাজার ৫০ ভোট। আর জামায়াত-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখিত মো. নুরুল হুদা পান ২ হাজার ৮৮৮ ভোট।
এর আগে ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিএনপির তাসকিন আহমেদ চিশতি ১৬ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেখ আজহার হোসেন পেয়েছিলেন ১২ হাজার ৮৭৩ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসিম ফারুক খান মিঠু পেয়েছিলেন ১২ হাজার ৫৩২ ভোট।
দুই নির্বাচনের ফলাফল তুলনা করলে দেখা যায়, তাসকিন চিশতির ভোট ২০১৫ সালের তুলনায় ২০২১ সালে বেড়েছিল ৮ হাজার ৬১৮টি। একই সময়ে নাসিম ফারুক খান মিঠুর ভোট বেড়েছিল ৬৮৯টি।
মিঠুর টানা দুই নির্বাচনের ভোট
এবারের মনোনয়ন-আলোচনায় নাসিম ফারুক খান মিঠুর নামও স্থানীয়ভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ, ২০১৫ ও ২০২১—দুই নির্বাচনেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১২ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন।
২০১৫ সালে তাঁর ভোট ছিল ১২ হাজার ৫৩২। ২০২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ২২১। টানা দুই নির্বাচনে এই ভোট তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও নির্বাচনী মাঠে নিজস্ব ভোটের সক্ষমতা নিয়ে আলোচনার ভিত্তি তৈরি করেছে।
তবে অতীতের নির্বাচনে পাওয়া ভোটকে সরাসরি বর্তমান নির্বাচনের সম্ভাব্য ভোট হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোটারের অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে।
আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির ভোটের হিসাব
২০১৫ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির শেখ আজহার হোসেন পেয়েছিলেন ১২ হাজার ৮৭৩ ভোট। কিন্তু ২০২১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কোনো মেয়র প্রার্থী ছিলেন না। ফলে ২০১৫ সালের জাতীয় পার্টির ওই ভোট পরবর্তী নির্বাচনে কোন প্রার্থীর দিকে কতটা গেছে, তা প্রকাশ্য ফলাফল থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
একইভাবে ২০২১ সালের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ নাসেরুল হকের পাওয়া ১৩ হাজার ৫০ ভোটও বর্তমান নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্থায়ী ভোটব্যাংক হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে ভোটারের সিদ্ধান্তেও পরিবর্তন আসতে পারে।
দলীয় ভোটের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভোটের হিসাব
স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় সাতক্ষীরা পৌরসভায় বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য ভোট নিয়ে বিভিন্ন আনুমানিক হিসাবও সামনে আসছে। এর মধ্যে জামায়াত-সমর্থিত ১২ থেকে সাড়ে ১২ হাজার এবং বিএনপির নিজস্ব ১০ থেকে ১১ হাজার ভোটের মতো হিসাবের কথা শোনা যায়।
তবে এগুলো কোনো সরকারি বা নির্বাচন কমিশনের ভোটব্যাংক পরিসংখ্যান নয়। ফলে এসব সংখ্যাকে নিশ্চিত ভোট হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
২০২১ সালের নির্বাচনে তাসকিন চিশতির ভোট ২৫ হাজার ৮৮-এ পৌঁছানোর পেছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের ভূমিকা ছিল—এমন আলোচনা স্থানীয়ভাবে রয়েছে। কেউ কেউ জামায়াতের ভোটের কৌশলগত অবস্থানের কথাও বলেন। তবে কোন দলের কত ভোট শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থীর পক্ষে গেছে, নির্বাচনী ফলাফল থেকে তা নির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
জাতীয় নির্বাচন ঘিরে তাসকিনকে নিয়েও আলোচনা
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব মো. আব্দুর রউফের প্রচারণা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে তাসকিন আহমেদ চিশতি ও তাঁর সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও আলোচিত হয়েছে। তবে এটিকে প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ হিসেবে নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠা করার মতো নিরপেক্ষ তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।
এর আগে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার আগে তাসকিন চিশতি সাতক্ষীরা-২ আসনে নিজেকে বিএনপির প্রার্থী করার দাবি জানিয়েছিলেন—এ বিষয়টিও স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় ছিল।
মনোনয়নে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে
সব মিলিয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে কয়েকটি বিষয় সামনে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—দলীয় ভোটের বাইরে প্রার্থীর নিজস্ব ভোট কতটা, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের সাধারণ ভোটারের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতটা, জনসম্পৃক্ততা কেমন এবং মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক যোগাযোগ কতটা শক্তিশালী।
পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাবেক সমর্থকদের একটি অংশ নতুন নির্বাচনী সমীকরণে কোন দিকে যাবে, সেটিও নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
তবে ২০১৫ ও ২০২১ সালের ভোটের হিসাব অতীতের নির্বাচনী চিত্র তুলে ধরে; এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ফলাফলের পূর্বাভাস নয়।
সাতক্ষীরা পৌরসভায় বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে তাই পুরোনো ভোটের অঙ্কের পাশাপাশি প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ভোট, সাংগঠনিক অবস্থান ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার হিসাবও আলোচনায় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন কে পাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।