প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সময়: ১২:১৪ এএম
কুলিয়ারচরে হাতকড়াসহ আ.লীগ নেতার পলায়ন: মামলা, ওসি প্রত্যাহার- পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
মোঃ মাইন উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশ হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ রেনু মিয়ার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা, গ্রেফতার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রত্যাহারের পর এবার পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন হয়েছে। প্রথম সংবাদ সম্মেলনে মোঃ রেনু মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ মিনার মিয়া ও তাঁর সহকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হলেও মোঃ মিনার মিয়ার পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনের বক্তৃতারা তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাধবদী চার রাস্তার মোড়ে মাধবদী গ্রামের একাংশের নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে এই সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মাধবদী ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ মিনার মিয়ার নেতৃত্বে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল এবং মহিলা দল নেতৃবৃন্দসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা বক্তব্য দেন। বক্তৃতারা মাধবদী গ্রামের মৃত ইল্লাল মিয়ার পুত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাধবদী ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ রেনু মিয়া এবং তাঁর সহযোগীদের সন্ত্রাসী, সুদখোর, মাদক কারবারি এবং চাঁদাবাজ ও ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যায়িত করেন।
লিখিত বক্তব্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুলিয়ারচর থানার একটি মামলায় মাধবদী গ্রামের বাসিন্দা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাধবধী ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ রেনু মিয়াকে গ্রেফতারের জন্য তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে হাতকড়া পরানোর পর স্থানীয় লোকজনের ভিড়ের সুযোগে তিনি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
এই ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে মোঃ রেনু মিয়াকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় মামলা (মামলা-১০) দায়ের করা হয়। এই মামলায় মোঃ রেনু মিয়াসহ তাঁর ছেলে মনিরের স্ত্রী ইতি আক্তার (২৩), প্রতিবেশী সাদিয়া আক্তার (২০), রত্না (৩০) ও আকলিমা (২৬)-কে গ্রেফতার করে কিশোরগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীনকে প্রত্যাহার করে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এরই মধ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর মোঃ রেনু মিয়ার পরিবারের সদস্য ও তাঁদের সমর্থকেরা মাধবদী গ্রামে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তাঁরা অভিযোগ করেন, মেয়ে-সংক্রান্ত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাধবদী কর্মকার পাড়ার সজিব রায় (৩৫) নামে এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর পরিবারকে ব্ল্যাকমেইল করে স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ মিনার মিয়াসহ তাঁর সহযোগীরা চাঁদা দাবি করেন। এর বিরোধিতা করায় মোঃ রেনু মিয়াকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। তাঁদের ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
তবে ১৭ সেপ্টেম্বরের সংবাদ সম্মেলনের পাল্টা- ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সকলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে মোঃ মিনার মিয়াসহ তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে করা চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, পুলিশ কার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বা কাকে গ্রেফতার করবে, সেটি পুলিশের নিজস্ব আইনি বিষয়। এ ঘটনায় তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বক্তারা আরও বলেন, তাঁদেরকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাঁরা এসব অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শাহ্ আলম সরকার, ৯নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোঃ রাসেল মিয়া, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দিলীপ কর্মকার, মহিলা দল নেত্রী ফরিদা বেগম এবং স্থানীয় বাসিন্দা নাজমা, সাহেনা, রেশমা, স্বপ্না ও খাইরুন্নাহার।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম আলী, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি মোঃ কাইয়ুম মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ রুবেল মিয়া, ছাত্রদল কর্মী মোঃ সাকিবসহ শতাধিক গ্রামবাসী।
বক্তারা আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর আমরা রেনু মিয়ার নানা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছি, এখন দল ক্ষমতায়- তারপরও আমর কেন তাঁদের মিথ্যা অপবাদ সইবো? এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।