নতুন করে তীব্র হামলা, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে নিহত ১৬
যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও থামেনি হামলা-পালটা হামলা
রাশিয়া ও ইউক্রেনের পালটাপালটি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। দুই দেশের পক্ষ থেকেই হামলা-পালটা হামলার তথ্য জানানো হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযান শুরুর পর চলতি অঞ্চলটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী গ্রীষ্ম পার করেছে। এরপর থেকেই দুই পক্ষ হামলার মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।
ইউক্রেনের দাবি, রুশ হামলায় দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুমি, জাপোরিঝঝিয়া ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দিনিপ্রোপেত্রোভস্কের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে।
রুশ হামলায় রাজধানী কিয়েভেও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর আগের দিন শহরটিতে রুশ হামলায় সাতজন নিহত হয়েছিলেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সামনে আরেকটি শীতকে কেন্দ্র করে কিয়েভে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে মস্কো।
অন্যদিকে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার ক্রাসনোদার ও বেলগোরোদ অঞ্চলে চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মস্কো। রাশিয়া-সমর্থিত খেরসন অঞ্চলের কর্মকর্তা ভ্লাদিমির সালদো জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্রিমিয়ার কাছে আস্কানিয়া-নোভা গ্রামের একটি ক্যাফেতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা চালানো হয়। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে ২০০৪ ও ২০০৬ সালে জন্ম নেওয়া দুই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া রাশিয়ার নিয়োগ করা জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের কর্মকর্তা ইয়েভগেনি বালিৎস্কি জানান, রাতে ইউক্রেনীয় হামলায় দখলকৃত ওই অঞ্চলে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা থমকে
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। ক্রেমলিনও জানিয়েছে, পূর্ব ইউক্রেনের অবশিষ্ট অংশ দখলের লক্ষ্য থেকে তারা সরে আসেনি। যুদ্ধের কারণে বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির কর্মকর্তারা সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বলেছেন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। তবে যুদ্ধের ময়দানে হামলা-পালটা হামলা অব্যাহত থাকায় সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।