১১ বছরের ইউকির হাতে এশিয়ান গেমসের সোনা
ই-স্পোর্টসে চমক দেখিয়ে জাপানের এই ক্ষুদে খেলোয়াড়ের সাফল্য
এশিয়ান গেমসের মঞ্চে বয়স যে সাফল্যের পথে বাধা নয়, সেটিই যেন প্রমাণ করল জাপানের ১১ বছর বয়সী ইউকি কুরিহারা। ই-স্পোর্টসের পুইও পুইও চ্যাম্পিয়নস ইভেন্টে সোনা জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই ক্ষুদে খেলোয়াড়। ফাইনালে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে শিরোপা নিশ্চিত করেছে সে।
ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার কাং দং-শিনের বিপক্ষে শুরুতেই ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে যায় ইউকি। তবে পরের খেলায় ঘুরে দাঁড়িয়ে ১০-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় জাপানের এই তরুণ গেমার। এর মধ্য দিয়ে এশিয়ান গেমসে নিজের প্রথম সোনার পদক নিশ্চিত করে সে।
শিরোপা জয়ের পর ইউকির প্রতিক্রিয়াতেও ছিল শিশুসুলভ সরলতা। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সে জানায়, কিছুটা লজ্জা লাগায় মুখের অভিব্যক্তি খুব একটা পরিবর্তন করতে পারেনি। তবে হাতে সোনার পদক পেয়ে তার আনন্দের কমতি ছিল না। পদকটিকে সুন্দর, চকচকে ও ভারী বলে বর্ণনা করেছে সে।
পুইও পুইও চ্যাম্পিয়নস মূলত একটি পাজল গেম। খেলোয়াড়রা একই রঙের বল একত্র করে সেগুলো স্ক্রিন থেকে সরিয়ে দেন। ইউকির গেমিংয়ের সঙ্গে পরিচয় অবশ্য বেশ পুরোনো। প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই সে এই গেম খেলা শুরু করে। পরে প্রতিযোগিতামূলক আসরে অংশ নিয়ে একের পর এক সাফল্য পেতে থাকে।
চলতি বছরের এপ্রিলেই পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে লাইসেন্স পায় ইউকি। এরপর নিয়মিত বয়সে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে আসছে সে।
তবে পড়াশোনার পাশাপাশি পেশাদার ই-স্পোর্টস চালিয়ে যাওয়া যে সহজ নয়, সেটিও স্বীকার করেছে ইউকি। স্কুল ও অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যস্ততার মধ্যেই অনুশীলনের সময় বের করতে হয় তাকে। তারপরও গেমিংকে উপভোগ করে বলেই চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে এই ক্ষুদে তারকা।
এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ পদকজয়ী নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো সরকারি তালিকা নেই। তবে অতীতের কয়েকটি ঘটনা ইউকির কীর্তির গুরুত্ব তুলে ধরে। ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ইন্দোনেশিয়ার ১২ বছর বয়সী বুঙ্গা নিমাস মেয়েদের স্কেটবোর্ডিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। এর আগে ২০১৪ সালের এশিয়ান গেমসে ১৩ বছর বয়সী কুই চেনসি মেয়েদের স্ট্রিট স্কেটবোর্ডিংয়ে সোনা জিতেছিলেন।
সেই হিসেবে মাত্র ১১ বছর বয়সে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে ইউকি কুরিহারার এই সাফল্য ই-স্পোর্টসের পাশাপাশি মহাদেশীয় ক্রীড়াঙ্গনেও বিরল এক নজির হয়ে থাকল।