সালমানের বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ বলা ঢালাও অভিযোগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ বলার অভিযোগকে ঢালাও মন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সালমান সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। একই সঙ্গে স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন তিনি।


রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বিভিন্ন অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মামলা করেননি। তবে তার বক্তব্যের ভিত্তিতে অভিযোগগুলো যাচাই করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি চাঁদাবাজ দল’—এ ধরনের ঢালাও অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার বিরুদ্ধে মামলা হলে সেটি তদন্ত করা হবে। স্টুডিও-সংক্রান্ত ঘটনায় বিতর্কিত জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ও দখল-বেদখলের বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে তিনি জানান।


পুলিশের বরাতে মন্ত্রী জানান, ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ৯৯৯ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে যায়। ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।


রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় ব্যবস্থা


রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।


এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি ওই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কেন্দ্রটির একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্তে যারই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


জাসদ কার্যালয় থেকে আটকের বিষয়ে


জাসদ কার্যালয়ে লোকজন জড়ো হওয়ার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পর অধিকাংশকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যাদের আটক রাখা হয়েছে, তাদের বিষয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে।


নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।