মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি, যাচ্ছে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: 


মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিমানবাহী রণতরী ও প্রায় ১০ হাজার সেনা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট নামের বিমানবাহী রণতরীটি অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ ও সেনাসদস্য নিয়ে নভেম্বরের শেষদিকে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করছে। নতুন করে ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট সেখানে পৌঁছালে অঞ্চলটিতে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন থাকবে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোর মধ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়।


এদিকে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সেনাদের দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকার পর সেনাদের বিশ্রামের সুযোগ দিতে রণতরীটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


নতুন রণতরীটি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছালে এ অঞ্চলে মার্কিন নৌ ও মেরিন সেনার সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি কয়েকশ যুদ্ধবিমানও মোতায়েন থাকবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে একসঙ্গে তিনটি বিমানবাহী রণতরী, বিপুলসংখ্যক সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।


এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে গত সপ্তাহে নতুন একটি প্রস্তাব দেয় ইরান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি করতে চাইছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতাও বাড়ছে।