প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
সময়: ০৫:৫২ পিএম
দফা বাড়তে বাড়তে এক দফা কেন হবে, প্রশ্ন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর
মোঃ মাহমুদুল হাসান বাবু পঞ্চগড় প্রতিনিধি পঞ্চগড়:
দফা বাড়লে আট থেকে ১০, ১০ থেকে ১৬ দফা হবে; এক দফা কেন হবে? বিরোধীদের বিভিন্ন দফা ও সরকারের পদত্যাগের দাবির প্রসঙ্গে এ প্রশ্ন তুলেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, আমরা বিএনপি সরকার, তারেক রহমান সরকার। আমরা কথায় বিশ্বাস করি না, কাজে বিশ্বাস করি। আমাদের নির্বাচনের বিশেষ করে জয়লাভের সাত মাস পার হলো। ইতিমধ্যেই দেখেন, আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারগুলো এই সাত মাসের মাথায় সারা বাংলাদেশে দৃশ্যমান সেইভাবে বাস্তবায়ন করছি।
শুক্রবার দুপুরে (২ অক্টোবর) পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বোয়ালমারী বারুনী ঘাটে করতোয়া নদীর তীর রক্ষা বাঁধের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ফরহাদ হোসেন আজাদ।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা আমাদের কর্মসূচিগুলোর যদি কোনো সমস্যা থাকে, আমাদের যে উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডগুলো আছে, সেগুলোতে যদি তাদের কোনো প্রশ্ন থাকে, আমাদের এগুলো সংশোধিত করতে হয়, সেগুলো আমাদের সংশোধিত করতে হবে। কিন্তু তারা এই সাত মাসের মাথায় বলছেন একটা একটা করে আট দফা, আট দফা নাকি আগামী মাসে আবার সেই দফা বাড়তে পারে; সে বাড়তে বাড়তে নাকি এক দফা হবে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এদেশের মানুষ যে আমাদেরকে ভোট দিল পাঁচ বছরের জন্য, পাঁচ বছর আমরা সরকার গঠন করতাম, সেই সরকারের ভুলত্রুটিগুলো আপনারা জনগণের সামনে তুলে ধরেন। সে তুলে ধরেই যদি আমাদের কোনো কাজের দুর্বলতা থাকে, ত্রুটি থাকে, দুর্নীতি থাকে, চুরি থাকে; সেক্ষেত্রে আপনারা সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, কিন্তু কোনো কথা নাই, বার্তা নাই, কোনো কর্মসূচি নাই; সরকারকে এই সাত মাসের মাথায় পদত্যাগ করতে হবে। জুলাই আন্দোলন ও নির্বাচন প্রসঙ্গে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের সেখানে ব্যর্থ ছিল বা এদেশের মানুষ সেখানে তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে ব্যর্থ ছিল এবং একটি ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা ওই জুলাই যে আন্দোলন করেছিলাম, সে আন্দোলনে আমাদের ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আমাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এরকম একটি নির্বাচিত সরকার, এদেশের মানুষ ভোট দিল আমাদেরকে পাঁচ বছরের জন্য। সেক্ষেত্রে কোনো আন্দোলন, কোনো কর্মসূচি নাই, আমাদের সরকারের কোনো উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো বিষয় নাই; সেক্ষেত্রে আজকে বিরোধীদল আজকে তারা কখনো আট দফা, কখনো ১২ দফা এবং কখনো নাকি এক দফার কথা বলছেন।
সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমার বিশ্বাস, আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা যে উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো করছি, সেগুলোকে তারা বিশেষ করে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আজকে তারা ষড়যন্ত্র করছেন।
সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, আমাদের বিশেষ করে ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদেরকে ভাতা, আমাদের ছাত্রদেরকে সেখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষা-দীক্ষা এবং পাশাপাশি তাদের খেলাধুলা-সংস্কৃতিতে নিয়ে যাওয়া, আমাদের স্বাস্থ্যসেবা সেখানে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, আমরা যে খাল কাটা কর্মসূচিগুলো আছে সে আমাদের খাল কাটাগুলো বাস্তবায়ন করে দিয়েই আমরা তাই বলতে চাই যে, আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে এই ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে লাভ নাই।
খাল খনন ও পানির স্তর প্রসঙ্গে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি যেহেতু পানিসম্পদ মন্ত্রী। আপনারা বলতে পারবেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই সময় ১৯৭৭ সালে এই খাল কাটা কর্মসূচি নিয়েছিলেন। এর পরবর্তীতে আর কোনো সরকার কখনোই বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিল যে, বাংলাদেশকে আগামী দিনে ভূমি মরুভূমি থেকে রক্ষা করতে গেলে বাংলাদেশের খাল কাটা দরকার আছে, বাংলাদেশের পানি সংরক্ষণের দরকার আছে? এগুলো কেউ চিন্তা করে নাই।
তিনি বলেন, এগুলো চিন্তা করেছে কে? একমাত্র আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পঞ্চগড়ের পানির স্তর প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমার পঞ্চগড়ে একটা সময় আমরা ২৫ থেকে ৩০ ফিট খনন করার পরে আমরা টিউবওয়েলে পানি পাইতাম, ডিপ টিউবওয়েলে পানি পাইতাম। এখন কি সে পানি পাই? এখন ২০০ মিটার, ২৫০ মিটার খোঁড়ার পরও কিন্তু আমরা পানি পাই না। তাহলে পানির স্তর নেমে গেল কেন?
তিনি বলেন, এইটাই কিন্তু তারেক রহমান, উনি চিন্তা করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন এবং বিভিন্ন সায়েন্টিফিকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন যে, আজকে যদি পানির স্তরকে আমি ধরে রাখতে পারি, তাহলেই আমাদের এই অঞ্চলগুলো বাংলাদেশ আজকে মরুভূমি থেকে রক্ষা পেতে পারে।
বিরোধী দলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে, জনগণ আমাদেরকে পাঁচ বছরের ম্যান্ডেট দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ্, সে পাঁচ বছর পরে আমাদের কর্মকাণ্ড দেখে জনগণ বিচার-বিশ্লেষণ করবে যে, আমাদের আগামীতে আমাদের ভোট দেওয়া উচিত কি উচিত না। সে সময় জনগণই নির্ধারণ করবে আগামীতে কে সরকার গঠন করবে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলকে সেই পর্যন্ত ধৈর্য ধরার জন্য আমি আহ্বান জানাবো এবং আমাদের সরকারের কোনো কর্মকাণ্ডে, কোনো কর্মসূচিতে যদি সেখানে আমাদের কোনো ভুলত্রুটি থাকে, সেগুলো তো তারা সংসদে গিয়ে আলোচনা করবেন, সেগুলো আমাদের ভুলকে ধরিয়ে দিবেন। আমি মনে করি, তার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।