প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সময়: ০৯:৫৫ পিএম
কুলিয়ারচরে মাদকের বিরুদ্ধে যুবদল নেতার ফেসবুক লাইভ: কিছুক্ষণ পরেই কুপিয়ে জখম
মোঃ মাইন উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে ফেসবুকে লাইভে নিরাপত্তা চাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হামলার শিকার হয়েছেন এক যুবদল নেতা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সোয়া ৯ টার দিকে ছয়সূতী ইউনিয়নের দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত যুবদল নেতার নাম মোহাম্মদ মামুন ভূঁইয়া (৩৫)। তিনি ছয়সূতী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তর কান্দিগ্রামের মৃত আব্দুর রউফের ছেলে। হামলার পর স্থানীয়দের সহায়তায় প্রথমে তাঁকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মামুন। তাঁর দাবি, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। লাইভে তিনি স্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন এবং প্রশাসন ও দলীয় নেতৃত্বের কাছে নিরাপত্তা চান।
মামুনের ভাষ্য অনুযায়ী, হুমকির বিষয়ে তিনি দুপুর ২টা ১১ মিনিটে কুলিয়ারচর থানায় ফোন করে জানান। এরপর দুপুর ২টা ৫৭ মিনিটে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি তিনি দেখতে পাননি। একই সঙ্গে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যার পর বৃষ্টির মধ্যে বাসস্ট্যান্ড থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি চায়ের দোকানের কাছে মামুনের ওপর হামলা হয়। মামুনের অভিযোগ, জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাঁকে ঘিরে ধরে হামলা চালায়। এ সময় কয়েকজন তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
তাঁর ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে মামুনের স্বজনদের দাবি। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনো আহত ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামুনের অভিযোগে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।