ডিমলার সন্তান সৈনিক জাহাঙ্গীর আলমের ৪র্থ শাহাদাত বার্ষিকী আজ

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: 

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আত্মোৎসর্গকারী নীলফামারীর ডিমলার সন্তান বীর সৈনিক জাহাঙ্গীর আলমের ৪র্থ শাহাদাত বার্ষিকী আজ। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আইইডি হামলায় শহিদ হন তিনি।

সৈনিক জাহাঙ্গীর আলম নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডিমলা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিতপাড়া গ্রামের সন্তান। দেশের সীমা পেরিয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁর আত্মত্যাগে গর্বিত ডিমলাবাসী। একই সঙ্গে প্রিয় সন্তানকে হারানোর বেদনা আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁর পরিবার ও স্বজনরা।

২০২২ সালের ৪ অক্টোবর সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনার সময় সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পুঁতে রাখা ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তিন সদস্য শহিদ হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডিমলার দক্ষিণ তিতপাড়া গ্রামের সৈনিক জাহাঙ্গীর আলম, সৈনিক জসিম উদ্দিন ও সৈনিক শরিফ হোসেন।

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ডিমলার সন্তান জাহাঙ্গীর আলমের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ স্থানীয় মানুষের কাছে যেমন গর্বের, তেমনি নতুন প্রজন্মের জন্য দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত।

শাহাদাতের চার বছর পেরিয়ে গেলেও ডিমলার দক্ষিণ তিতপাড়া গ্রামের মানুষের হৃদয়ে আজও অমলিন শহিদ সৈনিক জাহাঙ্গীর আলমের স্মৃতি। তাঁর ৪র্থ শাহাদাত বার্ষিকীতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন এই বীর সন্তানকে।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মোৎসর্গকারী বীর সৈনিক জাহাঙ্গীর আলমসহ সকল বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা। তাঁদের মহান আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।