কাতারের উত্তর উপকূলে ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

একাধিক আঘাতে হতাহত, হামলার কারণ ও জাহাজটির পরিচয় নিয়ে তদন্ত


বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক


কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে একটি বহুজাতিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। বুধবার সমুদ্রসীমায় জাহাজটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


ইউকেএমটিও জানিয়েছে, কাতারের মদিনাত আশ শামাল থেকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার উত্তরে সমুদ্রে ট্যাঙ্কারটিতে হামলা চালানো হয়। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। হামলার পর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আক্রান্ত ট্যাঙ্কারটি কোন দেশের পতাকাবাহী বা মালিকানাধীন, সে বিষয়েও এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কাতারের এক্সক্লুসিভ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটলেও দোহা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।


পারস্য উপসাগরের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে এ ধরনের হামলা তুলনামূলকভাবে বিরল বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িকী দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ। ফলে নতুন এ হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।


এর আগে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এ পথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহের ক্ষেত্রে এই নৌপথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।


ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরুতেই হরমুজ প্রণালিতে নয়টি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। সেপ্টেম্বরজুড়ে যে পরিমাণ হামলা হয়েছিল, তার প্রায় অর্ধেকই ঘটেছে চলতি মাসের প্রথম কয়েক দিনে। তবে হামলার মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। কেপলারের হিসাবে, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অঞ্চলটি থেকে দৈনিক তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বেড়ে ১৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।