মানিকগঞ্জে এলসিএস কর্মসূচিতে ২৩৩ নারীর কর্মসংস্থান

জহুরুল ইসলাম জুয়েল, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় গ্রামীণ সড়কের স্থায়িত্ব রক্ষা ও দুস্থ নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বাড়াতে কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি (এলসিএস) কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় জেলার ২৩৩ জন দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত নারী গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত রয়েছেন।

কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এসব নারী সড়কের দুই পাশ পরিষ্কার, ধসে যাওয়া স্থানে মাটি ভরাট এবং ছোটখাটো মেরামতের কাজ করেন। এ জন্য প্রত্যেকে দৈনিক ৩৫০ টাকা মজুরি পান। এর মধ্যে ২৫০ টাকা নগদ দেওয়া হয় এবং বাকি ১০০ টাকা ভবিষ্যৎ সঞ্চয় হিসেবে জমা রাখা হয়।

এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাত উপজেলার মধ্যে ঘিওরে সর্বোচ্চ ৪৫ জন নারী এ কর্মসূচিতে কাজ করছেন। এ ছাড়া সিংগাইরে ৪০ জন, সাটুরিয়ায় ৩৪ জন, শিবালয়ে ৩৩ জন, মানিকগঞ্জ সদরে ৩০ জন, দৌলতপুরে ২৭ জন এবং হরিরামপুরে ২৪ জন নারী কর্মসূচির আওতাভুক্ত রয়েছেন।

জেলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে অনেক গ্রামীণ সড়কের বাঁধ বালুমাটি দিয়ে তৈরি। ফলে বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি ও পানির স্রোতে সড়কের দুই পাশের মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত স্থান দ্রুত মেরামত ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে সড়কের বড় ধরনের ক্ষতি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখছেন নারী কর্মীরা।

মানিকগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, সড়কের ছোটখাটো ভাঙন শুরুতেই মেরামত করা না হলে তা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। এতে পরবর্তী সময়ে সড়ক পুনর্নির্মাণে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ফলে সড়কের স্থায়িত্ব বাড়ার পাশাপাশি সরকারি ব্যয় কমানো সম্ভব হচ্ছে।

এ কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষার পাশাপাশি নারীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও উদ্যোগটি ভূমিকা রাখছে।