ভারতের মুম্বাইয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলনে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বলিউড অভিনেতা ইমরান খান ও তাঁর প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। আন্দোলনস্থল থেকে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলেও পরে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বাইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত ওই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান খান ও লেখা ওয়াশিংটন। সেখান থেকেই তাঁদের আটক করে পুলিশ। একই ঘটনায় বলিউড অভিনেতা আমির খানের ভাগ্নী জৈন মেরিকেও আটক করা হয়েছিল। তবে মামলায় তাঁর নাম রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে ইমরান খান ও লেখা ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মচারীর আদেশ অমান্য করা, বেআইনি সমাবেশে অংশ নেওয়া এবং সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আন্দোলন থেকে চার শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক হওয়ার পর পুলিশের গাড়ি থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করেন ইমরান খান। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘একটা ড্রাইভে এসেছি।’ এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে পুলিশের সামনে ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

আরেকটি ভিডিওতে ইমরান খান বলেন, তাঁরা রাস্তায় আন্দোলন দেখছিলেন। এ সময় পুলিশ তাঁদের ঘিরে ধরে গাড়িতে উঠতে বলে। তাঁর দাবি, তাঁরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাননি; মুম্বাইয়ের সাধারণ নাগরিক হিসেবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, আটক হওয়ার পর মুক্তি পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন জৈন মেরি। সেখানে তিনি তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখান। আটক অবস্থায় তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে মুম্বাইয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে দায়ের করা মামলার বিষয়ে পুলিশি বক্তব্য এবং অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।