ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কালোবাজারি নির্মূলে অভিযান চালিয়ে রিপন ওরফে কালু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৪০ টি টিকিট, ৮০ টি আসনের ভুয়া টিকিট-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং নগদ ৩ হাজার ১৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।সোমবার ১২ অক্টোবর দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম মিয়ার নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান শেষে দুপুর ২ টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শরীফুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রিপন ওরফে কালু মিয়াকে এ দণ্ড দেন।
রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম মিয়া বলেন, রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনাও ঘটে। তারপরও জীবনের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন,ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ আমাদের সহযোগিতা করলে রেলস্টেশনে টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করা সম্ভব। সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
শাহ আলম মিয়া জানান, গত ছয় মাসে টিকিট কালোবাজারির ঘটনায় ২০ টি মামলা করা হয়েছে এবং ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, দণ্ডাদেশ দেওয়ার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুল ইসলাম এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় রেল যাত্রীরা বলেন রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের সচেতনতা ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে যাত্রীরা সহজে নির্ধারিত মূল্যে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন এবং কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব হবে।