নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির মধ্যে চলছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম। হাসপাতালের আয়া নার্স এবং স্টাফদের মার মুখি আচরণের কারণে সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ রোগীরা। প্রতি জায়গায় টাকা দিতে দিতে রোগীরা হয়রান। টাকা না দিলে যেন এখানে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নেই এ ধরনের আচরণ করে স্টাফ রা। রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে খারাপ আচরণ সব সময় করে থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিনামূল্যে সরকারি চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামসহ আশেপাশের জেলা এবং উপজেলা থেকে অনেক রোগী জমে হাসপাতালে আসে কিন্তু এখানকার স্টাফ নার্স এবং অন্যান্য কিছু দালাল দের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সঠিক চিকিৎসা নিয়ে মুশকিল। হাসপাতালের দালাল চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে হাসপাতালের স্টাফরা উভয় সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন উপায়ে রোগী এবং রোগীদের স্বজন থেকে অনৈতিকভাবে টাকা আদায় করে।
গেটে দায়িত্বেরতা আনসাররাও বিভিন্ন উপায়ে টাকা আদায় করে থাকে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দিলেও তারা সেগুলা কর্ণপাত করে না উল্টো অভিযোগ দেয়ার কারণে রোগী এবং তাদের স্বজনদের চিকিৎসার বাইরে রাখে। ইন্টারনী ডাক্তাররা হাসপাতালে থাকলেও দায়িত্বগত অধ্যাপকরা যথাসময়ে অফিসে না আসার কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়। অফিসে আসার সময় নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও দুইটাই অফিস থেকে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা আগেভাগে চলে যায়।
চন্দনাইশ থেকে আসা আব্দুল হালিম নামের এক রোগী বার্তা বিচিত্রা কে বলেন সঠিক চিকিৎসা এবং সরকারি খরচে চিকিৎসার জন্য এখানে এসেছি কিন্তু এখানে এসে বেসরকারি হাসপাতালের টাকা খরচ করতে হয়েছে। অনেকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য এখানে সুযোগ সুবিধা থাকলেও তা করা হচ্ছে না এরা বলে বাইরে থেকে করাতে হবে।
আবার কিছু বাড়তি টাকা দিয়ে দিলে হাসপাতালের ভিতরে পরীক্ষা করানোর সুযোগ করে দেয় কোন নিয়ম শৃঙ্খলা না মেনে। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মেশিন বন্ধ রাখে এতে রোগীদের পরীক্ষা করোনার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দেয় যাতে বাইরের ল্যাব থেকে তাদের কাছে কমিশন আসে। প্রতিটি ডাক্তারের টেবিলে এবং নার্সদের টেবিলে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর প্যাড দেয়া রয়েছে যাতে তারা লিখে সেখানে পাঠাতে পারে।
এতে নির্দিষ্ট একটি কমিশন পায় হাসপাতালের স্টাফ ডাক্তার থেকে শুরু করে অনেকেই। আবার নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা না করালে অনেক ডাক্তার সেটা দেখেও না। এতে রোগীদের উপর চাপ বেড়ে যায়। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল রোগীরা এ সময় বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে এখানে। এখানে টাকা দিলে যেন অনিয়ম নিয়মে পরিণত হয়।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বার্তা বিচিত্রা কে বলেন আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি রোগীদের সঠিক চিকিৎসা দেবা দেয়ার জন্য। বর্তমানে চমেক হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি তাই কিছুটা অনিয়ম থাকতে পারে আমরা অভিযোগ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
আবার অনেকের অভিযোগ হাসপাতালের কোন ও নিয়ম সরাসরি পরিচালক কে জানানোর জন্য নির্দিষ্ট মোবাইল নাম্বারে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন না।