নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের করুণা বাজারে অবস্থিত মাদরাসাতুস সুন্নাহ দারুল উলূমে বয়স্কদের কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের নতুন সবক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে বয়স্ক শিক্ষার্থীদের নতুন সবক প্রদানের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব গাজী আব্দুর রহিম রুহি। সহ-সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামগঞ্জের নূরে মদিনা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুফতি রাকিবুল হাসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান পিপিএম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১১ নম্বর বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান মোশারফ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় উলামায়ে কেরাম, বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মাদরাসাতুস সুন্নাহ দারুল উলূমের প্রতিষ্ঠাতা মুফতি অলিউল্লাহ সাদী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পবিত্র কোরআন শিক্ষা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কোরআন শেখার সুযোগ পাননি, তাদের জন্য বয়স্ক কোরআন শিক্ষা কার্যক্রম একটি মহৎ উদ্যোগ।
সভাপতির বক্তব্যে গাজী আব্দুর রহিম রুহি বলেন, কোরআন শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। তাই জীবনের যেকোনো বয়সেই কোরআন শেখার প্রতি আগ্রহী হওয়া উচিত।
প্রধান অতিথি মো. হাবিবুর রহমান পিপিএম বলেন, সন্তানদের মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে হবে। তারা যেন মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। সন্তানদের হাতে মোবাইলের পরিবর্তে পবিত্র কোরআন তুলে দিতে হবে এবং ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ অতিথি চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান মোশারফ বলেন, মাদরাসার এ মহৎ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। তিনি প্রতিষ্ঠাতাকে আশ্বস্ত করে বলেন, আপনারা এগিয়ে যান, আমরা আপনাদের পাশে আছি, ইনশাআল্লাহ।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুফতি অলিউল্লাহ সাদী জানান, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তিনি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। এ কার্যক্রম পরিচালনায় কারও কাছ থেকে কোনো আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা গ্রহণ করেন না। বিশেষ করে বয়স্ক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো বেতন নেওয়া হয় না। সম্পূর্ণ বিনা খরচে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং দ্বীনের খেদমতের উদ্দেশ্যে তিনি এ কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁর স্বপ্ন হলো, বয়স্কদের কোরআন শিক্ষার এ মহৎ উদ্যোগটি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে জীবনের যেকোনো বয়সে মানুষ পবিত্র কোরআন শেখার সুযোগ পান।
পরিশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ এবং মাদরাসার সার্বিক উন্নতি কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।