চট্টগ্রাম বন্দরের বহি নোঙ্গর এবং অভ্যন্তরীণ কন্টেইলার টার্মিনাল গুলোতে রাতদিন সক্রিয় রয়েছে বেশ কয়েকটি চোরাই চক্র। এই চক্রগুলো টার্মিনালে থাকা কন্টেনারগুলো থেকে বিভিন্ন পণ্য চুরি করে বাহিরে পাচার করে। বন্দর পুলিশ এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের অভিযানে বিভিন্ন সময় এই চোরাই চক্র গুলোর সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকার কারণে পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না চুরি।
বন্দরের তিন নাম্বার গেট থেকে ভেতরে যে সমস্ত অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল রয়েছে সেগুলোতে পূর্ব ওৎ পেতে থাকা চোরাই চক্রের সক্রিয় সদস্যরা বন্ধরে দায়িত্ব রথ নিরাপত্তা কর্মীদের অনেকটা চোখ ফাঁকি দিয়ে চোরায় কার্যক্রম পরিচালিত করে যদিও বন্দরের পুরো এলাকা জুড়ে সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে তারপরেও কিভাবে প্রতিনিয়ত চুরি হয় তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ বন্দর কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা কর্মী এই চোরাই বাহিনীর সাথে জড়িত থাকায় সক্রিয় চোরেরা নির্বিঘ্নে মালামাল চুরি করতে পারে।
বার্তা বিচিত্রার অনুসন্ধানে জানা যায় বন্দরের ভিতরে সক্রিয় চোরাই সদস্যদের মধ্যে জসিম খোরশেদ আমজাদ কালু আইয়ুব আলী শামসু ও নাসিম এর নেতৃত্বে রয়েছে অনেক সক্রিয় চোরাই বাহিনী এই বাহিনীর গুলোতে প্রায়শতাধিক সদস্য রয়েছে তারা বন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিশেষ করে রাত্রি কালীন সময়ে কন্টেইনার গুলো থেকে বিভিন্ন প্রকারের পণ্য চুরি করে অর্ধেক দামে বাইরে বিক্রি করে। কাপড় ইলেকট্রনিক পণ্য সহ যে সমস্ত মালামাল বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসে তারা টার্গেট করে এসব পণ্য চুরি করে। বন্দর কর্তৃপক্ষ শত চেষ্টা করেও চুরি রোধ করতে পারছে না। চুরি করে মালামাল পাচারের সময় অনেক সময় সক্রিয় চোর সদস্যরা গ্রেপ্তার হলেও তাড়াতাড়ি জামিনে মুক্তি পাওয়ার কারণে আবারো সক্রিয় হয়ে চুরি কার্যক্রম পরিচালনা করে দেয় চোরেরা।
এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বার্তা বিচিত্রাকে বলেন বন্দর ভেতরে বাইরে চুরি কার্যক্রম বন্ধ করতে আমরা শতভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিছু নিরাপত্তা কর্মী এই চোর বাহিনীর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন চোরচক্রের সাথে জড়িত থাকার কিছু অভিযোগ আমার দপ্তরে রয়েছে আমরা এগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। চট্টগ্রাম বন্দরকে আরো আধুনিক ও গতিশীল করার লক্ষ্যে চুরি বন্ধ খুব জরুরী। বন্দর ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রকার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে আগামীতে এ সকল কার্যক্রম পরিচালিত হলে আশা করি চুরি বন্ধ হবে।