ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক লাকি বালা দেবীর বিরুদ্ধে ঘুষ, হয়রানি, দুর্ব্যবহার ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে নাম প্রকাশ না করে দেওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সরেজমিন এ তদন্ত করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়ের শিক্ষা কর্মকর্তা খুরশিদ আলম অভিযোগটি তদন্ত করেন।
তদন্ত শেষে প্রধান শিক্ষক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, মানিক চন্দ্র শীল ও শেখ জালাল সাংবাদিকদের জানান, লাকি বালা দেবী দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত অফিস করেন না। শিক্ষকদের ছুটি, বকেয়া বেতন, জিপিএফ, চিত্তবিনোদন ভাতা ও পেনশনসংক্রান্ত কাজ করতে ঘুষ দাবি এবং টাকা না দিলে ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। কাজের ধরন অনুযায়ী ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় বলেও তাঁদের অভিযোগ।
এ ছাড়া শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, নাস্তা বা আইসক্রিম নিয়ে আসতে বাধ্য করা, দাপ্তরিক কাজে কম্পিউটার ও অনলাইন কার্যক্রমে দক্ষতার ঘাটতি এবং বিভিন্ন বিলের প্রত্যয়ন আটকে রাখার অভিযোগও করেন তাঁরা।
শিক্ষক নেতারা বলেন, ছাগলনাইয়ায় প্রায় ৪৭২ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে লাকি বালা দেবীকে অন্যত্র বদলি করে শিক্ষা অফিসে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তাঁরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লাকি বালা দেবী। তাঁর দাবি, কয়েকজন শিক্ষকের অন্যায় আবদার না রাখায় তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। পশ্চিম শিলুয়া ও উত্তর মন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই পিয়নের নিয়ম অনুযায়ী বেতন বন্ধ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। তিনি বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে তাঁর নাম ব্যবহার করে কয়েকজন টাকা নিতেন। বিষয়টি জানার পর তাঁদের এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি কখনো কারও কাছ থেকে ঘুষ নেননি বলেও দাবি করেন। বলেন , তারা (শিক্ষক নেতারা ) স্কুল ফেলে শিক্ষা অফিসে ফাইল নিয়ে ঘুরঘুর করতেন। তাদের এসব দালালি বন্ধ করে দেওয়ায় তারা আমার পেছনে লেগেছেন।
লাকি বালা দেবী আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক বিভিন্ন বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সংস্কারের বরাদ্দের অর্থের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এসব বিষয়েও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়ে কোনো পক্ষের হয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অনিতা রানী দত্ত। তিনি জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁকে তিনটি ক্লাস্টার থেকে পাঁচ-ছয়জন করে শিক্ষক উপস্থিত রাখতে বলেছিলেন। সে অনুযায়ী তিনজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষককে উপস্থিত থাকতে তিনি বা তদন্ত কর্মকর্তা নির্দেশ দেননি।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম জানান, তিনি অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেছেন। তদন্ত কার্যক্রম শেষে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে।