ভারতের দিল্লিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ নেতাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি লেখেন, ‘তোমাদের দিদি তোমাদের পাশে আছে, আজও, চিরকাল।’ একই সঙ্গে ভয়ভীতি ও চাপের মুখে সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার বিসর্জন না দিতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মমতার অভিযোগ, একটি প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে নীরব রাখার চেষ্টা চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় দেশটির নাগরিকদের গ্রেপ্তার করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, নিজেদের দেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে ভারতীয়দের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, অথচ কেন্দ্রীয় সরকার এটিকে শান্তিভঙ্গের ঘটনা হিসেবে দেখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
অভিষেকের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করেন সিজেপির কয়েকজন নেতা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে তাঁরা প্রবেশদ্বার টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁদের হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা ছিল। পরে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের সঙ্গে থাকা অজিঙ্ক শিণ্ডেকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
বুধবার এক বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় এর আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের প্রতি সমর্থন জানান। তাঁর মতে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ হতে পারে না। তরুণদের এভাবে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তিনি।
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, ছাত্রছাত্রী, তরুণ ও সাংবাদিকেরা তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছেন। রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন হলেও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে বিরোধী দলগুলোর অবস্থান এক হওয়া প্রয়োজন। প্রতিবাদের জন্য যন্তর মন্তরের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তার এবং এ নিয়ে বিরোধী নেতাদের প্রতিক্রিয়ায় ভারতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার, জাতীয় পতাকা প্রদর্শন ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।