নওগাঁর পোরশায় চিকিৎসকের পরিবর্তে অজ্ঞাত ব্যক্তি দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করানো এবং চরম অবহেলার কারণে এক সদ্যভূমিষ্ঠ নবজাতকের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই প্রতারণা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় “আল-মদিনা ল্যাব এন্ড হাসপাতাল”-এর মালিক মো. আহসান হাবিবকে গ্রেফতার করেছে পোরশা থানা পুলিশ।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই বিকেলে পোরশা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের মো. আমিনের প্রসববেদনায় আক্রান্ত স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে আল-মদিনা ল্যাব এন্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোসা. শারমিন আক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাম পর্যালোচনা করে সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের ওপর আস্থা রেখে রোগীর স্বজনরা অপারেশনে সম্মতি দেন এবং চুক্তিকৃত সব খরচ পরিশোধ করেন।
কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর পরিবারকে অন্ধকারে রেখে চরম প্রতারণার আশ্রয় নেয়। নির্ধারিত চিকিৎসক ডা. শারমিন আক্তারের পরিবর্তে তারা সম্পূর্ণ অজ্ঞাত ও অদক্ষ এক ব্যক্তিকে দিয়ে প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করায়।
অপারেশনের পরপরই মা ও নবজাতকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রেখে কালক্ষেপণ করতে থাকে। অবস্থার অবনতি হলে শিশুটিকে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১১ জুলাই সকাল ১০টার দিকে নবজাতকটি মারা যায়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের আশ্লে আদালতে শরণাপন্ন হয়। আদালতের নির্দেশে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারে পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় পোরশা থানা পুলিশের একটি টিম সরাইগাছী এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি ও হাসপাতালের মালিক মো. আহসান হাবিবকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আহসান হাবিব পোরশা উপজেলার শহরন্দ গ্রামের মৃত আনিছুর রহমানের ছেলে।
পোরশা থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।