নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ২নং ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন মন্ডলের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. সিফাত মাহমুদ ফাহিমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) নওগাঁর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক নজরুল ইসলাম তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের এই আদেশ দেন।
এর আগে গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন মন্ডল বাদী হয়ে নওগাঁর বিজ্ঞ ৮নং আমলী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (আত্রাই) মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আসামি মো. সিফাত মাহমুদ ফাহিম (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কখনো ডিবি, কখনো সিআইডি বা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি করে আসছেন। বিভিন্ন সময় তিনি ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজে বাধা সৃষ্টি করে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বেলা ১১টার দিকে আসামি ফাহিম ও তার ৫-৬ জন অজ্ঞাতপরিচয় সহযোগী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এমনকি পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা না দিলে ‘পূর্ব বাংলার সর্বহারা বাহিনী’ দিয়ে হত্যার হুমকিও প্রদর্শন করা হয়।
মামলার বাদী ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মন্ডল জানান, ঘটনার পর থেকেই আসামি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করে আসছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয় থানায় প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সিফাত মাহমুদ ফাহিমের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন থানায় ও আদালতে চাঁদাবাজি, প্রতারণাসহ নানা অনিয়মের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। নিজেকে বিভিন্ন ভুয়া পরিচয়ে সাধারণ মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াকেই তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তার এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিলেন এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন।