কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে- অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) কুলিয়ারচর থানায় মামলাটি করেন কুলিয়ারচর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম (৩৮)। মামলাটি থানায় ৯নং মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর দুপুরে কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব আব্দুল্লাহপুর শান্তি মোড় এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কয়েকজনকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ লেখা ব্যানার নিয়ে সড়কে মিছিল করতে দেখা যায়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগানসহ জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন। মিছিলটি শান্তি মোড় থেকে প্রায় ২০০ গজ দক্ষিণে গিয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোবরিয়া গ্রামের খাইরুল (২৮), আবু বাক্কার (৫০), অনিক (২৫), মারুফ (২৪), কামাল (২৫), ছোটন (২৫), মুরাদ (২৪), পাভেল (২৬), মুস্তাকিন (২৬), আনু মিয়া (২৫), সাদেক (২৬), রাকিব (৩২), রাহুল (২৮), মাসুম (৩৫) ও বাবলু (২৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে কর্মকাণ্ড পরিচালনা, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সংহতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে সংগঠিত হওয়া এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ আহমেদ রবিন তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মিছিলের ভিডিও ও ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, মিথ্যা মামলা আর অবৈধ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কখনো আদর্শকে দাবিয়ে রাখা যায় না। পোস্টে তিনি মিছিলটি কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রলীগের নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেন।
একই মিছিলের ভিডিও ও পোস্ট কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও শেয়ার করা হয়। সেখানে তিনি ওয়ালিদ আহমেদ রবিনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্যোগে মিছিলটি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদেন জানান, লিখিত অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও যাচাই-বাছাই করে মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তবে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।