কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে অন্যের সম্মানহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তাঁর মতে, কারও ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন করে কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারকে বিনোদন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মেহজাবীন। সেখানে তিনি শুধু মিথ্যা কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নয়, সেসব কনটেন্ট দেখার পর যারা শেয়ার করেন এবং অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেন, তাঁদের ভূমিকাও তুলে ধরেন। অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তির সাহায্যে কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য বা বানোয়াট দৃশ্য তৈরি করা গুরুতর অন্যায়। এসব কনটেন্ট যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা আর ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং বৃহত্তর সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়।

বর্তমানে অনেকের কাছে অনলাইনে কনটেন্ট তৈরি আয়ের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিষয়টি স্বীকার করেও মেহজাবীন প্রশ্ন তুলেছেন, অন্য একজন মানুষের অপমান ও অসম্মানকে কবে থেকে উপার্জনের উপায় হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে? তিনি মনে করেন, এ ধরনের অপতৎপরতাকে নারী কিংবা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই। অনলাইনে জনপ্রিয়তা অর্জন, ভিউ বাড়ানো এবং বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতায় যে কেউ ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। আবার এমন কর্মকাণ্ডের শিকারও হতে পারেন যে কেউ।

মেহজাবীনের বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মতে, যারা মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি করেন, তাঁদের পাশাপাশি যারা সেগুলো শেয়ার করেন, আলোচনা করেন কিংবা আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেন, তাঁদের ভূমিকাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে ভিউ, লাইক, শেয়ার ও ট্রেন্ডিংয়ে থাকার প্রতিযোগিতায় অনেকে কনটেন্টের সত্যতা ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করেন না। এর ফলে একজন ব্যক্তিকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তৈরি কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তাঁর সম্মানহানির কারণ হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ব্যক্তিগত বিবেক ও নৈতিক দায়িত্বের ওপর জোর দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, অনলাইনে কোনো কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার আগে সেটির সত্যতা, উদ্দেশ্য এবং অন্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং অনলাইনে দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মেহজাবীনের এই বক্তব্যও প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের দায়বদ্ধতা নিয়ে সেই আলোচনাকে সামনে এনেছে।